সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামে বিভিন্ন মেয়াদের বীমা করে মেয়াদ শেষে টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। বারুইহাটি গ্রামের শতবাধিক নারী-পুরুষ গ্রাহক গত রোববার বিকালে বারুইহাটি ঈদগাহ’র সামনের সড়কে এই মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাহক বারুইহাটি গ্রামের হারুন-অর-রশিদ, মো. বুলগানী, হযরত আলী পাড়, আব্দুল হান্নান সরদার, ছবিরোন বিবি, কমলা বেগম ও সুমিত্রা কর্মকার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, বারুইহাটি গ্রামের মৃত কোমরউদ্দীন সরদারের পুত্র ফয়সাল হোসেন (৪৫) বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪০০ নারী-পুরুষকে বিভিন্ন মেয়াদে বিমার গ্রাহক করেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনেক গ্রাহক তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা বলেন, বীমা গ্রাহকদের কাছ থেকে ফয়সাল হোসেন বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বীমা অফিসে অল্প টাকা জমা দিয়ে বাকী টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেছে। বীমার মেয়াদ পার হবার পর গ্রাহকরা তাদের টাকা ফেরৎ চায়লে সেই টাকা না দিয়ে নানান তালবাহানা করছে ফয়সাল।
গ্রাহকরা বলেন, ফয়সাল গ্রামের সহগজ-সরল অশিক্ষিত একাধিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বারবার কোম্পানী পরিবর্তন করিয়ে চাটা গ্রহনের রশিদ জমা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের নাম পরিবর্তন করে একে সময়ে একেক নামে রশিদ দিয়েছে। যে কারনে গ্রহকরা এখন কোম্পানীর কাছ থেকে প্রতিকার পাচ্ছেনা। আবার রশিদের নাম বা গ্রাহকের বিবরন ঠিকমতো না লেখাতে কোম্পানী এর দায় নিচ্ছে না। যে কারনে শত শত গ্রাহক তাদের কষ্টার্জিত লাখ লাখ টাকা ফয়সালের কাছে ফেরৎ চাইতে গেলেও ফয়সালের কোনও সহযোগীতা পাচ্ছেনা উপরন্তু হুমকির শিকার হচ্ছে। এঘটনার প্রতিকার পেতে নিরিহ এই মানুষগুলো মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে, গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ফয়সাল হোসেন বলেন, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১১৯ জন সদস্যের মধ্যে ১১৭ জনকে মোট ১৬ লাখ টাকা ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ১২ লাখ টাকার বিপরীতে বোনাসসহ ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং মেয়াদপূর্তির ক্ষেত্রে ৭০ জন সদস্যের মধ্যে ১৮ জনকে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা ইতোমধ্যে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাকি সদস্যরা কোম্পানির আইনগত জটিলতার কারণে তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে টাকা না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ ঘটনায় তারা দ্রুত তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।