September 15, 2026, 12:32 pm
শিরনাম :
বাগেরহাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে যুবদের সাইকেল র‍্যালি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- আইনমন্ত্রী ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার-বান্দরবানে ইয়াবা ঠেকাতে এআই ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব

মো. ইসমাইলুল করিম, বান্দরবান প্রতিনিধি

মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ইয়াবা যাতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলার বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ।

প্রস্তাবিত এসব তল্লাশিচৌকিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা, সিসিটিভি, মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড, যানবাহন ও লাগেজ স্ক্যানার রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।তল্লাশিচৌকি পরিচালনার জন্য পুলিশের ৩২১ জন সদস্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ।

২৭ জুলাই পুলিশের সদর দপ্তরে এ প্রস্তাব পাঠায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ।পুলিশ বলছে, সীমান্তে ইয়াবার চালান আটকের পরও পাচার বন্ধ হচ্ছে না। পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে নিয়মিত রুট পরিবর্তন করছে। ব্যবহার করছে পাহাড়ি পথ, পুরোনো সড়ক ও বিভিন্ন বিকল্প রুট।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক মো. নাজিমুল হক বলেন, কোনোভাবেই ইয়াবা ঢুকতে না দেওয়ার লক্ষ্যেই এ প্রস্তাব করা হয়েছে। তল্লাশিচৌকিতে সন্দেহভাজনদের আটকে তল্লাশি করা হবে। পাশাপাশি এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সন্দেহভাজন মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করা হবে।

পুলিশের প্রস্তাব অনুযায়ী, কক্সবাজারের রামু, সদর, উখিয়া ও চকরিয়ার সাতটি এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এসব তল্লাশিচৌকি বসানো হবে। এর মধ্যে কক্সবাজারের ভাঙ্গার মোড়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তের এই এলাকায় শহর ও পর্যটন এলাকায় ইয়াবা প্রবেশ ঠেকাতে বড় ধরনের নজরদারি বলয় তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এ চেকপোস্টে ৪২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড, লাগেজ ও ভেহিক্যাল স্ক্যানার, তিনটি এআইনির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং ১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া উখিয়ার পনেরো ছড়া ফরেস্ট অফিস-কাটিয়ার মাথা, রামুর রাংকুট বৌদ্ধবিহার, চৌফলদণ্ডী লোহার সেতু, কক্সবাজার রেলস্টেশন, উখিয়ার কোর্ট বাজার সড়ক ও চকরিয়ার হারবাং সড়ককেও নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।অন্যদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বেইলি সেতু, সোনাইছড়ি চৌরাস্তার মোড় এবং বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড়ে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানোর প্রস্তাব রয়েছে। রামুর গর্জনিয়ার ডাকবাংলো মোড়কেও গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১টি তল্লাশিচৌকিতে মোট ৩১টি এআইভিত্তিক মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা, ১৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানিং মেশিন এবং আটটি লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করা হবে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজিবি ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৫টি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি ইয়াবা জব্দ করেছে। এরপরও ইয়াবা পাচার বন্ধ হয়নি।মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু সীমান্তে অভিযান নয়, পাচারের রুটগুলো বন্ধ করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, একটি পথ বন্ধ হলে পাচারকারীরা অন্য পথ ব্যবহার করতে পারে। তাই সীমান্ত থেকে শহর পর্যন্ত পাহাড়ি পথ, বিকল্প সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন।পুলিশের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত পার হওয়ার পর ইয়াবা শহর কিংবা দেশের অন্য এলাকায় পৌঁছানোর আগেই একাধিক ধাপে চালান শনাক্ত ও আটকের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ