September 15, 2026, 1:23 pm
শিরনাম :
বাগেরহাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে যুবদের সাইকেল র‍্যালি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- আইনমন্ত্রী ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

আগামী ৫০ বছরের রূপরেখায় স্বপ্নের মাভাবিপ্রবি

ইসরাত জাহান আশা, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ২০২৬ থেকে ২০৭৫ সাল পর্যন্ত ৫০ বছরের একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি প্রতিনিধি (সিআর)-দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের সেমিনার কক্ষে অ্যাকাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফর্মুলেশান কমিটির আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর ও একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিছুর রহমান।

সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা, যুগোপযোগী কারিকুলাম, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব একাডেমিক পরিবেশ। আগামী ৫০ বছরে মাভাবিপ্রবিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের, গবেষণানির্ভর ও আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে এই একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রত্যাশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বের অংশ হবে। তাই তাদের অভিজ্ঞতা, প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা সম্পর্কে জানা ছাড়া একটি কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা একটি বাস্তবসম্মত, সময়োপযোগী ও ভবিষ্যতমুখী মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করতে চাই। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক বিকাশকেও আমি গুরুত্ব দিতে চাই।”

প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, “৫০ বছরের একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান মাভাবিপ্রবির ভবিষ্যৎ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা। সময়ের সঙ্গে শিক্ষা ও প্রযুক্তির পরিবর্তন ঘটছে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি একাডেমিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যেখানে আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে প্রতিফলিত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের মতামত আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রত্যাশা, সমস্যা, একাডেমিক সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার বিষয়গুলো মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এটি আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক হবে। সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা মাভাবিপ্রবিকে আগামী দিনের একটি উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।”

সভায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান ফরমুলেশন কমিটির এক্সপার্ট সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ এবং কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন মোঃ তারিক একাডেমিক মাস্টার প্ল্যানের খসড়া আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করেন।

এ সময় কমিটির সদস্য মাভাবিপ্রবির বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (বিজিই) বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম মহিউদ্দিন, সদস্য-সচিব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ খায়রুল ইসলামসহ শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ ফজলুল করিম এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সিআরবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীদের সিআররা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ, বিভাগভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাবরেটরি ও শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি সুবিধা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, কারিকুলাম আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিকীকরণ, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা, আবাসন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ আগামী ৫০ বছরের একাডেমিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

সিআরবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রণীত ২০২৬–২০৭৫ মেয়াদের ৫০ বছরের একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান মাভাবিপ্রবির শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি একটি টেকসই, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ