September 15, 2026, 1:27 pm
শিরনাম :
বাগেরহাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে যুবদের সাইকেল র‍্যালি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- আইনমন্ত্রী ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

মাতামুহুরীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীনের পথে শতবর্ষী মেরাখোলা কবরস্থান

মো. ইসমাইলুল করিম, বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামায় মাতামুহুরী নদী বেষ্টিত একটি পাহাড়ি ইউনিয়নের নাম ‘লামা সদর ইউনিয়ন’ এ ইউনিয়নে অব্যাহত নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হওয়ার পথে শত বছরের ‘মেরাখোলা কবরস্থান’। আট মাস আগে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তাতে স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। বরং অধিকাংশ জিও ব্যাগ পানিতে তলিয়ে গিয়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে ভয়ংকরভাবে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ইতিমধ্যে কবরস্থানের অধিকাংশ অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনি এ ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে, চলতি বর্ষায় এ কবরস্থানটির বাকি অংশটিও বিলীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই কবরস্থানটি রক্ষায় নতুন করে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লামা সদর ইউনিয়নের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিম -এ তিন পাশ ঘেষে বয়ে গেছে মাতামুুহুরী নদী। ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম কোনে নদীর পাশ ঘেষে ’নামার পাড়া’ নামের একটি পাড়া স্থাপিত হয় ১৯২৮ সালে। এ পাড়ায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠে ৫০০ পরিবারেরও বেশি বসতি। কিন্তু গত অনেক বছরের অব্যাহত মাতামুহুরী নদী ভাঙ্গনে পাড়াটি সম্পূর্ণ বিলিন হয়ে যায়। এতে গৃহহারা হন ৫০০ পরিবার।

শুধু তাই নয়, এ সময় মসজিদ, মাদ্রাসাসহ ২০০ একর ফসলি জমিও এ নদী গিলে খেয়েছে এ নদী। এখন এ ইউনিয়নের কবরস্থানটিও গিলে খাওয়ার অপেক্ষায়। শুরুতে ১ একর ২০শতক জমির উপর কবরস্থানটি স্থাপন করা হলেও অব্যাহত ভাঙ্গনের কারণে এখন মাত্র ৪০ শতক জায়গা অবশিষ্ট আছে কবরস্থানে। এতে কোন বাসিন্দা মারা গেলে লাশ কবর দেওয়া নিয়ে চরম সংকট দেখা দেয়।

সরেজমিনে গিয়ে আরও দেখা যায় কবরস্থানের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পানির স্রোতে উত্তর ও পশ্চিম পাশ থেকে প্রতিনিয়ত মাটি সরে যাচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে আগে স্থাপন করা জিও ব্যাগগুলোর অনেকগুলোই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কিছু জিও ব্যাগ স্রোতের টানে সরে গিয়ে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে কবরস্থানের সীমানা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোজাম্মেল, আব্দুল হামিদ, মনিয়া, আব্দুর রশিদ, আব্দুর সত্তার ও সামছু’সহ স্থানীয়রা জানায়, আট মাস আগে নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগের মাধ্যমে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। শুরুতে এতে ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সময়ের সঙ্গে পানির স্রোত ও বর্ষার প্রবল পানির চাপে জিও ব্যাগগুলো কার্যকারিতা হারাতে শুরু করে। বর্তমানে অনেক জিও ব্যাগ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কবরস্থান রক্ষায় সেটি ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাই জিও ব্যাগ দিয়ে স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন রোধ হবে না। কবরস্থানটি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ব্লক স্থাপন জরুরী। তবেই কবরস্থানটির বাকি অংশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এদিকে ভাঙ্গনে বাপ দাদাদের কবর মাতামুহুরী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানান মেরাখোলা গ্রাম সর্দার ছব্বির আহমদ, তিনি প্রতিবেদক’কে বলেন, এখন যে কবরগুলো আছে, সে কবরগুলোর বয়স ১৫-২০ বছর। অধিকাংশ জায়গাসহ কবর বিলীন হয়ে যাওয়ায় কেউ মারা গেলে কবরের জায়গা সংকটে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বান্দরবান জেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী অভিজ্ঞান চাকমা জানান, খবর পেয়ে মেরাখোলা কবরস্থানসহ পৌরসভা এলাকার রাজবাড়ী পয়েন্টে নদীভাঙন পরিদর্শন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভাঙ্গন রোধে প্রাক্কলন তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেছে ভাঙ্গন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

মাতামুহুরী নদী ভাঙ্গনে কবরস্থানের অধিকাংশ জায়াগ বিলীনের সত্যতা নিশ্চিত করে লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, মেরাখোলা এলাকায় নদীভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তারা সরেজমিনে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনও করেছেন। পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন কর্মকর্তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “মাতামুহুরীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীনের পথে শতবর্ষী মেরাখোলা কবরস্থান”

  1. phabc888 says:

    Started here as a casual visitor and quickly became a regular because the experience just clicks. The bonus structure is straightforward and the wagering requirements are actually reasonable. I love how they celebrate player milestones with genuine perks instead of empty promises. A trustworthy spot that truly understands what online fans need. phabc888

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ