September 15, 2026, 12:32 pm
শিরনাম :
বাগেরহাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে যুবদের সাইকেল র‍্যালি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- আইনমন্ত্রী ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

নেত্রকোণায় ‘সোনালী আঁশ’ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষকরা

আসাদুজ্জামান তালুকদার, নেত্রকোণা প্রতিনিধি

জলবায়ু পরিবর্তন, ন্যায্য মূল্যের অভাব এবং পাট অধিদপ্তরের সময়োপযোগী পদক্ষেপের ঘাটতিতে নেত্রকোণা জেলায় ক্রমাগত কমছে পাটের আবাদ। এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল ‘সোনালী আঁশ’ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। তবে জেলা কৃষি বিভাগ ও পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা চাষাবাদ বৃদ্ধি এবং পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন।

চাষিদের ক্ষোভ ও অভিযোগ
স্থানীয় পাটচাষিদের দাবি, বীজ সংকটের সমাধান না হওয়া, সার-কীটনাশকের উচ্চমূল্য এবং পাট জাগ দেওয়ার পর্যাপ্ত জলাশয়ের অভাবে তারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে পাট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা সময়োপযোগী কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে লাভজনক না হওয়ায় অনেক চাষি বাধ্য হয়ে পাটের পরিবর্তে অন্য ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ও মাঠচিত্র
নেত্রকোণা কৃষি অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে জেলায় মোট ৪ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে জাতভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল:
• দেশী জাত: ৭০০ হেক্টর
• তোষা জাত: ২৪০ হেক্টর
• মেস্তা জাত: ৪৫০ হেক্টর
• কেনাফ জাত: ৩,১২০ হেক্টর

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রে লক্ষ্যমাত্রা এবং অর্জনের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে দেশী জাতের পাট চাষের আংশিক পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:
• কেন্দুয়া: ২৫০ হেক্টর (সর্বোচ্চ চাষাবাদ)
• বারহাট্টা: ৭৩ হেক্টর
• মোহনগঞ্জ: ৫০ হেক্টর
• আটপাড়া: ৩০ হেক্টর
• পূর্বধলা ও দুর্গাপুর: ৮ হেক্টর করে
• কলমাকান্দা: ২ হেক্টর
• নেত্রকোণা সদর: মাত্র ১ হেক্টর

প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, জেলার হাওরবেষ্টিত মদন এবং খালিয়াজুড়ি উপজেলায় এবার পাটের কোনো আবাদই হয়নি।

উদ্বিগ্ন কৃষি বিভাগ ও গৃহীত পদক্ষেপ
নেত্রকোণা কৃষি অধিদপ্তরের খামারবাড়ির উপ-পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম লক্ষ্যমাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কৃষকদের পাট চাষে ধরে রাখতে এবং উৎপাদন বাড়াতে মাঠপর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে চাষিদের অভিযোগের বিষয়ে নেত্রকোণা জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আতাউর রহমান নোমানী জানান, তারা নিষ্ক্রিয় নন। পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধে তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া বাজারে পাটের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন,

পাটের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু মোবাইল কোর্ট বা কাগজের লক্ষ্যমাত্রা যথেষ্ট নয়; বরং সরাসরি চাষিদের দোরগোড়ায় মানসম্মত বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ