ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গাজিরহাট এলাকার একটি স্কুল সংলগ্ন বেইলী সেতুর সংযোগ সড়কে বড় আকারের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে সংযোগ সড়কের মাটি ধসে গিয়ে ওই স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন ওই সেতু দিয়ে শত শত যানবাহন চলাচল করছে। ফলে ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ। বিশেষ করে রাতে দৃশ্যমানতা কম থাকায় গাড়ি চালকরা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। চালকরা জানিয়েছেন, সড়কের ওই অংশ দিয়ে যেতে হলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়। অনেকসময় ছোট গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালকরা গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা হলেও কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অবহেলার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া না হলেও স্থানীয়রা লাল নিশান টানিয়ে দিয়েছে।
মোটরসাইকেল চালক হেলাল উদ্দিন জানান, ব্যবসার প্রয়োজনে প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহার করতে হয়। সংযোগ সড়কে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সতর্ক হয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হয়। সতর্কতার পরও মাঝেমধ্যেই ছোট গাড়ি বা মোটরসাইকেল গর্তে পড়ে যাচ্ছে। চালক ও আরোহীরা আহত হচ্ছেন। তিনি দ্রুত ধসে যাওয়া অংশ সংস্কারের দাবি জানান।
পুটিয়াখালী স্কুলের শিশুশিক্ষার্থীরা জানায়, গর্তের কারণে ভয়ে ভয়ে সেতু দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। স্থানীয় হায়দার আলী জানান, গর্তের কারণে সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে লাশবাহী গাড়ি নিচে পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। মাঝেমধ্যে এরকম ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। এরপরও কর্তৃপক্ষ সংস্কারের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অটোচালক রিপন ও কবির জানান, এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় না। প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। অবহেলার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পুনর্নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলমান রয়েছে। অনুমোদন হলেই সেখানে নতুন সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। আপাতত সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করা হবে।