September 15, 2026, 1:26 pm
শিরনাম :
বাগেরহাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে যুবদের সাইকেল র‍্যালি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- আইনমন্ত্রী ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

পার্লামেন্টর সংস্কৃতিকে রাজপথে নেয়ার অপচেষ্টাকারীরা শহীদের আত্মত্যাগকে বুঝতে পারছেনা : তথ্যমন্ত্রী

বরিশাল ব্যুরো প্রধান

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আমাদের সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার, তারেক রহমানের সরকারের পক্ষ থেকে জাতির সামনে আবারও শপথ উচ্চারণ করছি, যে শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি, যে শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছি, সেই শহীদের রক্তের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য, দেশের অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবো।

বুধবার (০৫ আগস্ট) সকালে বরিশাল নগরের আমতলার মোড়স্থ জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এসময় মন্ত্রী আরও বলেন, সারা বাংলাদেশ আজ ২৪-এর জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে স্বপ্ন ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের রক্তের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পাওয়ার, একটি মানবাধিকার সম্পন্ন বাংলাদেশ পাওয়ার, সামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন একটি সাম্যের বাংলাদেশ পাওয়ার। দুর্ভাগ্যজনকত হলেও সত্য, লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশের মানচিত্র পেয়েছি, ভূখণ্ড পেয়েছি কিন্তু আমরা বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সমাজে পরিণত করতে পারিনি। আর এ কারণেই আমরা দেখেছি, ২০২৪ এর শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্রকে মুক্ত করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আবার সেই ফ্যাসিবাদ, আবার সেই স্বৈরতন্ত্র আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছিল। ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখার জন্য দেশের সংসদকে নপুংসক করে ফেলেছিল, দেশের বিচার বিভাগকে দাসে পরিণত করেছিল, আইন বিভাগকে একটি যাত্রা দলের হাস্যকর বিষয়ে পরিণত করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ আমাদের দেশের তৎকালীন সময়কার সব জাতীয় নেতৃবৃন্দর নেতৃত্বে, দীর্ঘপথ ধরে আমরা সংগ্রাম করে ফ্যাসিবাদকে হটানোর এক জমিন তৈরি করেছিলাম। আমরা খুবই গর্বিত, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সেই জমিনে আন্দোলনের শুরুর সময় যারা শিশু ছিল, যারা কিশোর ছিল, সেই শিশু কিশোররাই যৌবনপ্রাপ্ত সৈনিকে রূপান্তরিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে ফ্যাসিবাদ হাসিনাকে উৎখাত করার জন্য আন্দোলন শুরু করেছিলাম, তখন আবু সাঈদ ছিল শিশু, কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রামের আবহাওয়াতে, একটি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ত্যাগী, ন্যায্য, সাহসী যুবকে রূপান্তরিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ অসংখ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ আমরা কায়েম করেছি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই ফ্যাসিবাদকে হটিয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কাঠামো ঘোষণা করেছেন। আন্দোলনের পর্বে পর্বে তিনি ঘোষণা করেছেন ”ফয়সালা হবে কোন পথে”? ফয়সালা হবে রাজপথে”। শেষ পর্যন্ত রাজপথেই ফয়সালা হয়েছে। রাজপথেই পরাজিত হয়েছে ফ্যাসিবাদ, রাজপথেই পরাজিত হয়েছে ফ্যাসিবাদের নেতৃত্বে গঠিত সব কুচক্রিদের জোট। পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গোটা বাংলাদেশে দুইভাগে বিভক্ত হয়েছে-“ফ্যাসিবাদ বনাম গণতন্ত্র”। পরাজিত হয়েছে ফ্যাসিবাদ, বিজয়ী হয়েছে গণতান্ত্রিক মানুষ। সেই বিজয়ের পথ ধরে আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অবাধ অধিকারকে আদায় করেছি। আর সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমাদের বর্তমান সরকার, তারেক রহমানের সরকার, ধানের শীষের সরকারকে আজ জনগণ নির্বাচিত করেছে।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই পার্লামেন্ট বাংলাদেশে একটি কার্যকরী পার্লামেন্টে রূপান্তরিত হবে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, আন্দোলন সংগ্রামের ঐক্যবদ্ধ সব শক্তি আমাদের অর্জিত এই বিজয়কে ধারণ করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলবে। আমাদের মধ্যের মতের পার্থক্যকে আমরা সংসদের বিতর্কের মধ্যে আবদ্ধ রাখবো। যারা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে পার্লামেন্টর বদলে রাজপথে নেয়ার জন্য অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন তারা শহীদের আত্মত্যাগকে বুঝতে পারছেন না। যারা আজ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্কের বদলে সামাজিক গণমাধ্যমে নৈরাজ্য ছড়িয়ে বেড়াচ্ছেন, তারা ভুল করছেন। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে আবারও আবহান জানাতে চাই, যেই ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদকে হটিয়েছি, যেই ঐক্যের মধ্য দিয়ে আমরা শহীদের রক্তের বিনিময়ে পার্লামেন্টকে পেয়েছি, আসুন সেই পার্লামেন্টকেই রাজনীতির একমাত্র কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত করি। এর ব্যত্যয় জনগণ মেনে নেবে না। এ কাজ যদি আমরা করতে পারি তাহলেই শহীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া শহীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার অন্য কোনো পথ আমাদের সামনে খোলা নেই। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিকশিত দল এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে পথ চালিত দল এ কাজে, জাতির কাজে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সব সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবো, কিন্তু যদি বাধা হয় অনৈতিককর্ম, তাহলে আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে সব বাধাকে দূর করার জন্য সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবো শহীদের রক্তের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ