July 29, 2026, 11:20 pm

বাগেরহাটের ফকিরহাটে “সম্প্রীতির সমাবেশ” অনুষ্ঠিত।

সৈয়দ জালিস মাহমুদ

বাগেরহাটের ফকিরহাটে “সম্প্রীতির সমাবেশ” অনুষ্ঠিত।

ফকিরহাটে সম্প্রীতির সমাবেশ অনুষ্ঠিত,
“সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় শান্তি, সহনশীলতা ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “সম্প্রীতির সমাবেশ” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ফকিরহাট ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে ফকিরহাট পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি)-এর উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (MIPS) প্রকল্পের আওতায় এবং এফসিডিও (FCDO)-এর আর্থিক সহায়তায় অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর সাহেদুর রহমান জোহার সভাপতিত্বে এবং ফকিরহাট উপজেলা জাতীয়তাবাদী দলের সদস্য ও পিএফজি কো-অর্ডিনেটর ইফতেখার আহমেদ পলাশের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী যুব মহিলা দলের সভাপতি ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর কলিনা ইসলাম, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নূরজাহান খাতুন, গণঅধিকার পরিষদের সাহাজাদী রহমান, সাংবাদিক সৈয়দ জালিস মাহমুদ, পুরোহিত শিবনাথ রায়, ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ও ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের (YPAG) কো-অর্ডিনেটর শেখ সাবিতুল ইসলাম সাগর, রাদিয়া জামান রিয়া, শামিমা আক্তার শর্মী, নারী উদ্যোক্তা সুমি ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পিএফজি অ্যাম্বাসেডর সাহেদুর রহমান জোহা বলেন, “ফকিরহাটের শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ধর্ম, মতাদর্শ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার শিক্ষা দিতে হবে।
আমরা যদি একে অপরের মতামত ও বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখাই এবং সংকট ও বিরোধের সময় সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজি, তাহলে সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে। ফকিরহাটের সকল শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও শক্তিশালী করে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ধর্ম, মতাদর্শ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা মানুষকে বিভক্ত করার কারণ হতে পারে না। পারস্পরিক বোঝাপড়া, সহমর্মিতা, সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই সহিংসতামুক্ত, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ, নারী এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সমাবেশ শেষে উপস্থিত প্রতিনিধিরা ধর্ম-বর্ণ, মতাদর্শ ও রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমে একযোগে “সম্প্রীতির ফকিরহাট” গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এমআইপিএস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. রেজবিউল কবির।#


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ