দেশের রপ্তানিমুখী চিংড়ি শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র খুলনা অঞ্চলে বর্তমানে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সব পর্যায়েই সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ভাইরাসজনিত রোগ, মানসম্মত পোনা সংকট, লবণাক্ততার পরিবর্তন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতার কারণে চাষি ও রপ্তানিকারকরা চাপে রয়েছেন। সাম্প্রতিক শিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতেও এসব সমস্যাকে খাতটির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন ঘের মালিকরা জানান, মাছের খাদ্য, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ভাইরাসের আক্রমণ ও মানসম্মত পোনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে অনেক চাষি নতুন করে ঘেরে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

রপ্তানিকারকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যার কারণে দেশের চিংড়ি রপ্তানি প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে।
মৎস্য খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংকট কাটিয়ে উঠতে রোগমুক্ত পোনা উৎপাদন, আধুনিক চাষপদ্ধতির সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে ঋণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও তাগিদ দিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, “সাদা সোনা” হিসেবে পরিচিত চিংড়ি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকার, উদ্যোক্তা ও চাষিদের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। যথাযথ নীতি সহায়তা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে খুলনা অঞ্চলের চিংড়ি শিল্প আবারও দেশের রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।