September 15, 2026, 3:42 pm
শিরনাম :
বাগেরহাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে যুবদের সাইকেল র‍্যালি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে- আইনমন্ত্রী ফকিরহাটে অজ্ঞাত পরিবহণের ধাক্কায় পিকআপ চালক নিহত ফকিরহাটে আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ প্রতিরোধে মাঠে মাঠে আলোক ফাঁদ ভারত সেবা সংঘে গনেশ পূজোর শুভ সূচনা করলেন- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাকৃবি’র তৃতীয় শ্রেণী কর্মচারী পরিষদ এর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত লামায় দোকানে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে সুনীল কান্তি দে’র ৬ মাসের কারাদণ্ড মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতে হারিয়ে গেল ‌দুই ছাত্র সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বদলে যাবে কালীগঞ্জের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের চিত্র-এমপি, ফজলূল হক মিলন তালায় সেবা প্রদানকারী দপ্তরের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

পাহাড়ধসে রোহিঙ্গাশিশুসহ ৮ প্রাণহানি, আহত ২

আবদুল্লাহ আল আজিজ, উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে ভয়াবহ পাহাড়ধসে এক রাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৮ রোহিঙ্গা শরনার্থী। নিহতদের মধ্যে দুই পরিবারের সাতজন এবং একজন শিশু রয়েছে। পৃথক তিনটি ক্যাম্পে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে টানা বৃষ্টিতে আরেকটি ক্যাম্পের একাধিক শেল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২৪ জন আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস, ৮ এপিবিএন পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত থেকে সোমবার (৬ জুলাই) ভোরের মধ্যে উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী, ৭ নম্বর কুতুপালং ও ১১ নম্বর বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত দেড়টা থেকে পৌনে ৩টার মধ্যে ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে। পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পড়ে। ঘরের ১০ সদস্য মাটিচাপা পড়লেও উদ্ধার অভিযানে কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবিত উদ্ধার করা হলেও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এরপর রাত ২টার দিকে ৭ নম্বর কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ রশিদের সাত বছর বয়সী ছেলে একরাম মাটিচাপা পড়ে মারা যায়।

পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১১ নম্বর বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন নিহত হন। তারা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তাঁর বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)।

এদিকে প্রাণহানির পাশাপাশি টানা বর্ষণে ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ/২, এ/৩ ও এ/১৫ ব্লকের চারটি শেল্টার আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ের মাটি ধসে সৈয়দ হুসাইন ও মোহাম্মদ আমিনের ঘরের বাঁশের দেয়াল ভেঙে যায়। এছাড়া আবুল কালাম ও মোহাম্মদ ফারুকের শেল্টারের মেঝে পানিতে তলিয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে চারটি পরিবারের মোট ২৪ জন সদস্য আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। যদিও ওই ক্যাম্পে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ধসের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস, ৮ এপিবিএন পুলিশ এবং স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনাকবলিত স্থানগুলোতে তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়।

রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হেলাল উদ্দিন বলেন, আগাম সতর্কতা, মাইকিং এবং বিভিন্ন প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলো এখনো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুজিবুর রহমান বলেন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যৌথভাবে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলমান রয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের বারবার মাইকিং ও প্রচারণার মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ