July 25, 2026, 4:01 pm
শিরনাম :
মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালায় জলবায়ু পরিবর্তন, প্রভাব এবং করনীয় শীর্ষক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় অলিম্পিক কোম্পানির ডিলারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড বাগেরহাটে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ফকিরহাটে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন বাগেরহাট জেলায় শুরু হয়েছে স্মার্ট কৃষক কার্ড এর তথ্য সংগ্রহ কাঁঠালিয়ায় চলছে কৃষক স্মার্ট কার্ড তথ্য সংগ্রহ রাজপাড়া থানা পরিদর্শনে আরএমপি কমিশনার শ্যামনগরে বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কালীগঞ্জে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

ফুলকা পচা রোগে মরছে মাছ, আতঙ্কে ফকিরহাটের চাষিরা।

সৈয়দ জালিস মাহমুদ

ফুলকা পচা রোগে মরছে মাছ, আতঙ্কে ফকিরহাটের চাষিরা।

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক মাছের ঘের ও পুকুরে ব্রস্কিওমাইসিস ছত্রাকের আক্রমণে ব্যাপকহারে ফুলকা পচা রোগ দেখা দিয়েছে। এতে সাদা মাছের পাশাপাশি বাগদা ও গলদা চিংড়িও মারা যাচ্ছে।
একের পর এক ঘেরে মাছের মড়কে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা। ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করা অনেক খামারি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন।

বুধবার (৩০ জুন) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হঠাৎ করেই মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। উষ্ণ আবহাওয়া, বৃষ্টির ঘাটতি, পানির স্তর কমে যাওয়া এবং দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বেড়ে ফুলকা পচা রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করছে চাষি ও মৎস্য বিভাগ।

ফকিরহাট উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় সরকারি নিবন্ধিত ৮ হাজার ৪টি বাণিজ্যিক ঘের এবং ২ হাজার ৬০৮টি পুকুর রয়েছে। এছাড়া নিবন্ধনের বাইরে আরও কয়েক হাজার ঘের ও পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। তবে কতটি ঘেরে ফুলকা পচা রোগ ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।

বারাশিয়া এলাকার মাছ চাষি শেখ মনি বলেন, “গতকাল পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু এক রাতের মধ্যে পানিতে অক্সিজেন কমে যাওয়ায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার বাগদা ও গলদা চিংড়ি মারা গেছে।”

ঠিকরীপাড়া এলাকার মাছ চাষি বাবু ফকির বলেন, “এক রাতেই আমার প্রায় দুই লাখ টাকার সাদা মাছ মারা গেছে। মাছগুলোর ফুলকা ফ্যাকাসে সাদা হয়ে গেছে। মাছ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এ মাছ আর বিক্রি করা যাবে না। মরে সাদা মাছ পানির ওপরে ভেসে উঠেছে, আর চিংড়ি তলায় পড়ে আছে।”

উপজেলার আরও কয়েকজন চাষি জানান, তাদের অনেকের ঘেরেই মাছ মারা যাচ্ছে। অনেকে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছেন। এভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়লে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ফকিরহাট উপজেলায় বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩১৫ মেট্রিক টন এবং সাদা মাছের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ২৩৩ মেট্রিক টন। তবে বছরের শেষ দিকে ফুলকা পচা রোগের ব্যাপক বিস্তারে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফকিরহাট কলেজের জীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আদিত্য কুমার সরকার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতুচক্র ও তাপমাত্রার স্বাভাবিক ধারা বদলে যাচ্ছে। এর প্রভাব জলাশয়ের পরিবেশের ওপর পড়ছে। উষ্ণতা বৃদ্ধি ও পানির গুণগত মানের অবনতির ফলে মাছের রোগবালাই বাড়ছে।”

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল্লাহ বলেন, “অতিরিক্ত ঘনত্বে মাছ মজুদ, পুকুরে জৈব বর্জ্য জমে থাকা এবং পানির মান খারাপ হয়ে যাওয়ায় এ রোগের প্রকোপ বাড়ে। এ সময় ঘেরে মাছের ঘনত্বও বেশি থাকে, আবার পানিও কমে যায়। ফলে ফুলকা পচা রোগ দ্রুত ছড়ায়।”

তিনি বলেন, “চাষিদের অতিরিক্ত খাবার না দিয়ে পরিমিত খাবার প্রয়োগ, প্রয়োজন অনুযায়ী পানি আংশিক পরিবর্তন এবং প্রতি শতকে ২০০ গ্রাম হারে চুন প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।” #


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ