October 30, 2026, 9:40 pm
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

পালপাড়ায় নেই পালদের বসবাস, জৌলুশ নেই নববর্ষ ঘিরে

মো. আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি 

পালপাড়ায় নেই পালদের বসবাস, জৌলুশ নেই নববর্ষ ঘিরে, ঐতিহ্য হারিয়ে স্মৃতি হতে চলছে মাটির তৈরি তৈজসপত্র।

গ্রামাঞ্চলের সাংসারিক জীবনে মাটির জিনিসপত্রের ব্যাবহার ছাড়া ভাবাই যেতনা। পহেলা বৈশাখকে ঘিরে পালপাড়ায় কুমোরদের ব্যাস্ততা আর জৌলুশ নেই আগের মত। বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বাংলা নববর্ষকে ঘিরে পহেলা বৈশাখে মাটির বাসনে পান্তা-ইলিশ খাওয়া, পূজা পার্বণে গঙ্গাস্নানের মাটির পাত্র ব্যাবহার, শষ্যের বীজ সংরক্ষণ ছাড়াও পারিবারিক ব্যাবহারে মাটির পাত্র ছিলো ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। এরমধ্যে ছিলো হাড়ি, ঢাকনা, কলস, বাসন, মালসা, পিঠা বানানোর ছাঁচ, মুড়িভাজার খোলা, মটকি, চারি, টালি সহ আরো অনেক তৈজসপত্র।

ঝালকাঠি শহর এবং পশ্চিম ঝালকাঠিতে প্রায় ৪০/৪৫ টি ছিলো পালপরিবার। এদের ঐতিহ্যের কারনেই এখানকার একটি সড়কের নাম রয়েছে পালবাড়ি সড়ক। পাল পাড়ার নারী-পুরুষের মধ্যে চলতো মাটির পাত্র তৈরির প্রতিযোগিতা। পুরুষরা মাটির তৈরি পাত্র নৌকায়, ভ্যানগাড়িতে কখনো বাঁশের তৈরি বড় ঝাকায় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিক্রি করতো।

আজ থেকে ২৫/৩০ বছর পূর্বে দেখা যেতো পাল পাড়ায় পালেরা কাঁদামাটি দিয়ে চাকা ঘুড়িয়ে বিভিন্ন বাসনপত্র তৈরি করতো। তৈরি করা বাসন খোলা যায়গায় রোদে শুকিয়ে তরলরং এ চুবিয়ে বিশেষ চুলায় পোড়াতো। মাটির পাত্র পোড়ানোর জন্য প্রতিটি পরিবারে একটি করে ঘর থাকতো, সেখানে পাত্র গুলো সুন্দর করে সাজিয়ে বিভিন্ন জালানি দিয়ে আগুনে পোড়ানো হতো। ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় পুরো পালপাড়া ছেয়ে যেত। সেই পালপাড়া প্রায় এখন মানুষ শূন্য। হাতে গোনা কয়েকটি পাল পরিবার রয়েছে। বাকীরা সবাই অন্যত্র চলেগেছে। কেউ আবার অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছে। বাড়িঘর গুলো শ্মশানের মতো দেখাচ্ছে। কাঁচা ঘরের মাটি খসে পড়েছে। সকল যন্ত্রপাতি অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে এখানে সেখানে। দু’একটা বাড়িতে মহিলা-পুরুষ কিছু বানাচ্ছে।

এরকম অবস্থা কেনো জানতে চাইলে দিলীপ পাল (৬৪) এ প্রতিনিধিকে জানান, মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা কমে যাচ্ছে। প্লাস্টিক, এলুমিনিয়াম, সিলভার সামগ্রীর প্রভাবে মাটির জিনিস কদর হারিয়েছে। পাশাপাশি আমাদের তৈরি জিনিসপত্রের দামও বেড়েছে। আমরা যেগুলো ৫/৭ টাকায় বিক্রি করতাম সেগুলো এখন ৪০/৫০ টাকায় কিংবা এর বেশীও বিক্রি করতে হয়। এছাড়াও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম আর এই পেশায় থাকতে চাচ্ছেনা তারা পড়ালেখা করে চাকুরী ও ব্যাবসার দিকে ঝুঁকছে।

পুরো পালপাড়া ঘুরে দেখা গেলো পাঁচটি বাড়ির মধ্যে মাত্র দু’জন টুকটাক মাটির কাজ করছেন। ছোট বড়ো প্রতিমা, পুতুল বানিয়ে রোদে শুকাচ্ছে। মাটির জিনিস পত্র তৈরির চাকা যেটা ঘুরিয়ে বিভিন্ন জিনিস পত্র তৈরি হতো, সেই জিনিস টা অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে। কোনোটা আবার বেড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। অথচ একটা সময় দিন-রাত এই চাকা বিরামহীন ভাবে ঘুরে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতো।

গ্রামের অন্য পেশার মানুষের সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা হলে তারা বলেন, পালদের এভাবে চলে যাওয়ায় আমাদের মাটির জিনিসের বিরাট অভাব দেখা দিয়েছে। আগে হাতের কাছে ছিলো প্রয়োজনে বিভিন্ন জিনিস কিনে নিয়ে এসেছি। এখন মাটির পরিবর্তে লোহা এলুমিনিয়াম ব্যাবহার করতে হয়। সবমিলিয়ে নানান সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে।

সর্বপরি শৈশবের সেই পহেলা বৈশাখ মানেই ছিলো মেলায় গিয়ে মাটির জিনিস পত্র কিংবা খেলনা কেনা। যান্ত্রিক শহরে আধুনিকতার ভীরে সেই মাটির সোঁদা গন্ধ আমরা অনেকটা হারিয়ে ফেলছি। এই মাটির তৈজসপত্রে মিশে আছে আমাদের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর ফেলে আসা স্মৃতির একটুকরো অনুভূতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ