সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ ধনকুবের খালাফ আহমদ আল হাবতুর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন।
চিঠিটি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় লেখা।
তিনি লিখেছেন:
“আমাদের অঞ্চলকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে টেনে নেওয়ার ক্ষমতা আপনাকে কে দিয়েছে?
আমাদের ভূখণ্ডকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার অনুমতি কে দিয়েছে?”
আল হাবতুর আমিরাতের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি — বিলিয়নিয়ার, সাবেক কূটনীতিক, উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বনামধন্য রাজনৈতিক কণ্ঠ। তিনি কথা বললে ইউএই নেতৃত্ব তা গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।


তার প্রশ্নগুলো ছিল:
* এ সিদ্ধান্ত কি আপনার নিজের, নাকি নেতানিয়াহুর চাপের ফল?
* হামলা শুরুর আগে পার্শ্বক্ষতির হিসাব কি করেছিলেন?
* আপনি জিসিসি দেশগুলোকে এমন বিপদের কেন্দ্রে ফেলেছেন, যার জন্য তারা প্রস্তুত ছিল না।
* আপনার তথাকথিত “বোর্ড অব পিস” উদ্যোগ উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থে পরিচালিত— কিন্তু এখন আঘাতের শিকার তারাই। সেই অর্থ কোথায় গেল?
* আপনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন— আর কোনো যুদ্ধ নয়। অথচ সোমালিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, নাইজেরিয়া, সিরিয়া, ইরান, ভেনেজুয়েলা— মোট সাতটি দেশে সামরিক অভিযান চালিয়েছেন।
* আপনার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বছরেই ৬৫৮টি বিমান হামলা— যা বাইডেনের পুরো মেয়াদের সমান, যে বিষয়টি নিয়ে আপনি তাকে সমালোচনা করেছিলেন।
* এই যুদ্ধের ব্যয় ৪০–৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট হিসাব করলে ২১০ বিলিয়ন ছাড়াতে পারে।
* মাত্র ৪০০ দিনে আপনার জনসমর্থন ৯ শতাংশ কমেছে।
* আমেরিকানদের প্রতিশ্রুতি ছিল শান্তি— কিন্তু তারা এখন ট্যাক্সের টাকায় যুদ্ধ পাচ্ছে।
সবচেয়ে ধারালো লাইনটি ছিল:
“আপনার বোর্ড অব পিস উদ্যোগের কালি শুকানোর আগেই আমরা এমন সামরিক উত্তেজনার মুখোমুখি, যা পুরো অঞ্চলকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাহলে সেই উদ্যোগগুলো কোথায় গেল?”
আল হাবতুর কোনো এলোমেলো সমালোচক নন। তিনি মূলধারার ক্ষমতাকাঠামোর অংশ, সংযুক্ত, প্রতিষ্ঠিত।
যখন ইউএই–এর এলিটরা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন এর মানে — আমেরিকার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ আরব মিত্ররাও বলছে ‘আমরা এই যুদ্ধে সই করিনি।’
চিঠির শেষ লাইন:
“সত্যিকারের নেতৃত্ব যুদ্ধের সিদ্ধান্তে নয়— জ্ঞানে, অন্যের প্রতি সম্মানে, এবং শান্তি অর্জনের প্রচেষ্টায়।”