July 25, 2026, 4:00 pm
শিরনাম :
মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালায় জলবায়ু পরিবর্তন, প্রভাব এবং করনীয় শীর্ষক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় অলিম্পিক কোম্পানির ডিলারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড বাগেরহাটে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ফকিরহাটে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন বাগেরহাট জেলায় শুরু হয়েছে স্মার্ট কৃষক কার্ড এর তথ্য সংগ্রহ কাঁঠালিয়ায় চলছে কৃষক স্মার্ট কার্ড তথ্য সংগ্রহ রাজপাড়া থানা পরিদর্শনে আরএমপি কমিশনার শ্যামনগরে বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কালীগঞ্জে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

মাসে দু’বার জোয়ারে পানিতে ডুবে বিদ্যালয়, দাবি শিক্ষার্থী-অভিভাবকের

তরফদার রবিউল ইসলাম

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নের ১২৫ নং পূর্ব খাউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জোয়ারের পানিতে মাসে প্রায় দু’বার প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। জোয়ার এলেই আতংক ছড়িয়ে পড়ে দুই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর মনে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি এই বিদ্যালয়ে দ্রুত একটি সাইক্লোন টু-স্কুল ভবন নির্মাণ।

১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে একতলা চার কক্ষ বিশিষ্ট ভবন পায়। বর্তমানে এক কক্ষে অফিস কার্যক্রম এবং বাকি তিন কক্ষে পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়ে ১৫৪ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন।

সোমবার (১১ আগস্ট)দুপুরে স্কুলের চারপাশে পানি থৈ থৈ করছে শ্রেণীকক্ষে চলছে পাঠদান আর শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ভরপুর আতংকে যে কোনো মুহূর্তে পানি ঢুকে পড়তে পারে কক্ষে। লবণাক্ততার প্রভাবে ভবনের দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তরা ফলে নাজুক হয়ে পড়েছে স্থাপনাটি।

শিক্ষার্থীরা জানায়, মাসে দুইবার এভাবে পানি ওঠে, খেলাধুলা ও পিটি বন্ধ হয়ে যায়। তারা মাঠ ভরাট ও নতুন পাকা ভবন নির্মাণের দাবি জানায়।

একজন স্থানীয় অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন,জোয়ারের সময় বাচ্চাদের স্কুল পাঠাতে ভয় লাগে। পানি এসে পড়লে ক্লাসের ভেতর বসা যায় না। সরকার যদি দ্রুত উঁচু ভবন করে দেয় তাহলে আমাদের সবার দুশ্চিন্তা দূর হবে। আরেক অভিভাবক মমতাজ বেগম বলেন,আমার ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। মাসে দুইবার পানি ওঠে তখন ভিজে ভিজে ক্লাস করতে হয়। অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা চাই সরকার দ্রুত নতুন ভবন তৈরি করুক।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন,জোয়ারের পানি ঢুকে পড়লে শিক্ষার্থীরা ভয়ে ও অস্বস্তিতে থাকে, পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই ভোগান্তি সহ্য করছি। স্থায়ী সমাধানের জন্য মাঠ উঁচু করা ও টেকসই নতুন ভবন নির্মাণ সময়ের দাবি।

প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল আহসান বাবলু বলেন, চারটি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষের বসবাস এ এলাকায়। কাছাকাছি কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই। যদি বিদ্যালয়ে সাইক্লোন টু-স্কুল ভবন নির্মাণ হয় তাহলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষও আশ্রয় নিতে পারবে।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান জুয়েল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলো আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করছি।উপজেলায় ৩০৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০টি এখনও টিনশেড। নতুন ভবন ও মাঠ ভরাটের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। শুধু ভবন নয় উঁচু মাটি ভরাট স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। আমরা চাই প্রতিটি বিদ্যালয় শিক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগকালে মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করুক। যদি কোনো বিদ্যালয় বাদ পড়ে, তবে পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ