July 25, 2026, 7:22 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা নিন্মমানের খাবার বিক্রির অভিযোগ, ভিড় ও দাম বেশি

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

বাণিজ্য মেলার নিম্ন মানের খাবার বিক্রির অভিযোগ। তবে ভিড় ও দাম বেশি। মেলায় খাবারের স্টলগুলোতে ভোজনরসিকদের এতটাই ভিড় যে খেতে বসার জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। কোনো কোনো স্টলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সরবরাহের পাশাপাশি দাম বেশি রাখার অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। ঘোরাঘুরি আর কেনাকাটার পাশাপাশি খাবারের দোকানে ভিড় করছে তারা। মেলায় এসে দর্শনার্থীরা পণ্য না কিনলেও খেতে কেউ ভুল করেন না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিভিন্ন অনিয়ম রোধে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখায় গত কয়েক দিনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কয়েকটি খাবারের দোকানকে জরিমানা করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দোকানে অনেক ভিড়। সন্ধ্যার পর আরো বেশি ভিড়। রাত পর্যন্ত জমজমাট থাকে খাবারের স্টলগুলো। বসার স্থান না পেয়ে অনেকেই দাঁড়িয়ে সেরে নেন খাওয়ার কাজ। এবারের মেলায় পুরান ঢাকার শাহি বিরিয়ানি, হাজির বিরিয়ানি, পুরাতন ঢাকার চিংড়ি ঝালফ্রাই, কস্তুরি কাবাবসহ বেশ কিছু খাবারের স্টল রয়েছে। মেলায় বিভিন্ন খাবারের মধ্যে -কাবাব, চিকেন মাসালা, বিরিয়ানি, হাঁসের মাংস, কাচ্চি, তান্দুরি চায়ের চাহিদা বেশি। এছাড়া চিকেন বিরিয়ানি, মাটন কাচ্চি, বিফ কাচ্চি, ফ্রাইড চিকেন, চিকেন শাসলিক, চিকেন চাপ, চিকেন গ্রিল, বডি কাবাব, ফালুদা, জুস, কফি, ভাত, মাছ, ডাল, সবজি, মাংস, লাচ্ছি, নুডল্স, পানীয়, মাটন হালিম, ফুসকা, চটপটি, পরটা, কাবাব ও খিচুড়ি থেকে শুরু করে থাই স্যুপের বেশ চাহিদা রয়েছে। তবে লুচি আর চিকেন চাপের চাহিদা বেশি।

অনেকেই মাটির পাত্রে স্পেশাল চা, ও তান্দুরি চা খেতে স্টলগুলোতে ভিড় জমান। প্রত্যেকেই যেন কিছু না কিছু খেতেই মেলায় এসেছেন এমনটাই মনে হয়েছে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত খাবার দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার বিকেলেই খাবার শেষ হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার মধ্যেই আবারো খাবার তৈরি করত হচ্ছে এমনটাই জানিয়েছেন খাবারের স্টল মালিকরা।

হাজী বিরিয়ারিন খাবার সরবরাহকারী হাজী আলী আকবর বলেন, মেলায় ঘোরাঘুরি আর ছবি তোলার সঙ্গে খাওয়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। সে কারণে খাবারের স্টলে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। অন্যান্য খাবারের চাহিদা থাকলেও পরিবেশসম্মত দেশীয় খাবারের চাহিদাই বেশি।

পুরান ঢাকার শাহি বিরিয়ানির বিক্রয় প্রতিনিধি রবিন মিয়া বলেন, দুপুর ও রাতের খাবার হিসেবেও মেলার দর্শনার্থীরা তার দোকানে ভিড় করছেন।
সেভয় আইসক্রিমের বিক্রয় প্রতিনিধি মাইশা ইসলাম বলেন, আইসক্রিম ও ফাস্টফুড-জাতীয় খাবার শিশুদের আকৃষ্ট করছে। বিক্রিও হচ্ছে প্রচুর।
পুরাতন ঢাকার চিংড়ি ঝালফ্রাই দোকানের খাবার সরবরাহকারী আকরাম হোসেন বলেন, দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় চিকেন চাপ, লুচি, রুটির চাহিদা এখানে বেশি।

কস্তুরি কাবাব রেস্টুরেন্টের বিক্রয় প্রতিনিধি লোকমান হোসেন বলেন, ভোক্তার চাহিদার কথা বিবেচনা করেই এখানে বিভিন্ন ধরণের খাবার বিক্রি করা হচ্ছে। নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী প্রতিদিন তাদের খাবার রসনাবিলাসীদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়।

রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে স্বপরিবারে মেলায় ঘুরতে আসা গৃহবধূ লামিয়া আক্তার বলেন, স্টলগুলোতে খাবারের দাম বেশি। খাবারের মান ও পরিমাণ অনুযায়ী দাম আরেকটু কম হওয়া উচিত।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ব্রাক্ষণগাঁও এলাকা থেকে মেলায় আসা গৃহবধূ লাকী আক্তার বলেন, স্টলগুলোতে খাবারের বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো স্টলে মূল্যতালিকা নেই। আবার কেউ কেউ তালিকায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও খাবারের দাম বেশি রাখছেন। কেউ কেউ খাবার খেয়ে বিল দিতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। কেউবা খাবারের পর বিলের রসিদ দিচ্ছেন না।

বাণিজ্য মেলায় অভিযান পরিচালনাকারী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রোজিনা আক্তার বলেন, খাবারের মূল্যতালিকা প্রদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা প্রদর্শন করা না হলে কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করা কিংবা খাবারের দাম বেশি রাখা হলে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ