July 25, 2026, 5:53 pm
শিরনাম :
কালীগঞ্জে বাল্য বিয়ের অপরাধে কনের পিতাকে ছয় মাসের কারাদন্ড বরিশাল জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন মাদার নদীর বাঁশের স্যাকোটি ব্রীজ করার দাবীতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কবিরহাটে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালায় জলবায়ু পরিবর্তন, প্রভাব এবং করনীয় শীর্ষক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় অলিম্পিক কোম্পানির ডিলারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড বাগেরহাটে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ফকিরহাটে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন বাগেরহাট জেলায় শুরু হয়েছে স্মার্ট কৃষক কার্ড এর তথ্য সংগ্রহ

মহান বিজয় দিবস-২০২৫ ও জাতির প্রত্যাশা; মোঃ সেলিম রেজা

মোঃ সেলিম রেজা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস-২০২৫ ও জাতির প্রত্যাশা

লেখক- মোঃ সেলিম রেজা

 

🏆 ১. প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে “মহান বিজয় দিবস” হিসেবে পালিত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্ণ করছে। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষায়, এ বছর দিবসটি “জাতীয় জীবনে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন”। এটি কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি উন্নত, সুশাসিত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেওয়ার সময়।

📅 ২. সরকারি ও জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচি

সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ বিজয় দিবস-২০২৫ কে “ঐতিহাসিক ও বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণকারী” হিসেবে পালনের জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। উল্লেখযোগ্য কর্মসূচিগুলোর বিবরণ নিম্নরূপ:

২.১ প্রাথমিক ও আনুষ্ঠানিক আয়োজন

· ৩১ বার তোপধ্বনি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ: ১৬ ডিসেম্বর ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, বিদেশি কূটনীতিক ও সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা জানাবেন।
· সার্বজনীন শ্রদ্ধা ও অর্থনৈতিক প্রভাব: দেশজুড়ে শহিদ মিনারগুলো ফুলে ভরে উঠবে। কেবল বগুড়া জেলাতেই দিবসটি উপলক্ষে অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রির আশা করা হচ্ছে।

২.২ ঐতিহাসিক বিশ্বরেকর্ডের প্রচেষ্টা

বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী এবার একটি দৃষ্টান্তমূলক আয়োজন করেছে।

· বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে প্যারাস্যুটিং: বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তিতে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করবেন। এটি “বিশ্বে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং” এর গিনেস বিশ্ব রেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে করা হচ্ছে।
· সময় ও স্থান: ১৬ ডিসেম্বর সকাল ১১:৪০ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরে এই আয়োজন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

২.৩ সশস্ত্র বাহিনীর মহড়া ও জনগণের অংশগ্রহণ

· ফ্লাই পাস্ট ও বাহিনীর শো: সকাল ১১টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী পৃথকভাবে ফ্লাই পাস্ট মহড়া পরিচালনা করবে এবং বিশেষ ব্যান্ড শো পরিবেশন করবে।
· সারাদেশে উন্মুক্ত আয়োজন: অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতেও একই রকম মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীও ব্যান্ড শোর আয়োজন করবে।

🎭 ৩. সাংস্কৃতিক ও জনপরিমণ্ডলের আয়োজন

· সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুষ্ঠানমালা: সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫ ডিসেম্বর বিকেলে অ্যাক্রোবেটিক শো ও যাত্রাপালা “জেনারেল ওসমানী” মঞ্চস্থ হবে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় শুরু হবে বিজয় দিবসের গান।
· দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা: সারাদেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কণ্ঠে পরিবেশিত হবে।
· বিজয়মেলা ও প্রতিযোগিতা: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সব জেলা-উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলা আয়োজিত হবে। শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

🤝 ৪. সমাজের সকল স্তরে অংশগ্রহণ ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি

সরকারের আয়োজনে এবার “ধর্ম, বর্ণ, বয়স, জাতি, শ্রেণি নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ” নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

· ধর্মীয় প্রার্থনা ও সমাজসেবা: সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় শহিদদের রুহের মাগফেরাত ও দেশের শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। দেশের সব হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম ও এতিমখানায় প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।
· শিক্ষা ও সেবা প্রতিষ্ঠানে উন্মুক্ততা: সকল সরকারি জাদুঘর ও শিশুপার্ক বিনা টিকেটে উন্মুক্ত থাকবে। সিনেমা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

🔍 ৫. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় প্রত্যাশা

এবারের বিজয় দিবস একটি রূপান্তরমুখী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পালিত হচ্ছে।

· গণতান্ত্রিক উত্তরণের আহ্বান: প্রধান উপদেষ্টা তার বাণীতে বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ শুরু হয়েছে, তা যে কোনো মূল্যে রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন এটি।
· ঐক্যের প্রতি জোর: বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্যকে জাতীয় শক্তিতে পরিণত করা” এখন সবচেয়ে জরুরি।
· নতুন প্রজন্মের ভূমিকা: সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী উল্লেখ করেছেন যে, “চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে” অনুপ্রেরণাদায়ী গানগুলো মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ছিল, যা প্রমাণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের অস্ত্বিত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

💎 ৬. উপসংহার

২০২৫ সালের মহান বিজয় দিবস উদযাপন কেবল একটি বার্ষিক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নয়। এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, যেখানে গৌরবময় অতীতের স্মরণ, বর্তমানের রূপান্তর সংগ্রাম এবং ভবিষ্যতের উন্নত বাংলাদেশ গঠনের আকাঙ্ক্ষা একসূত্রে গাঁথা। সরকারের ব্যাপক আয়োজন, সামরিক বাহিনীর বিশ্বরেকর্ডের চেষ্টা, সাংস্কৃতিক সম্প্রসারণ এবং সর্বোপরি জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার—এই সব মিলিয়ে বিজয় দিবস-২০২৫ জাতিকে নতুনভাবে উদ্দীপ্ত ও ঐক্যবদ্ধ করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ