July 25, 2026, 3:19 pm
শিরনাম :
মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালায় জলবায়ু পরিবর্তন, প্রভাব এবং করনীয় শীর্ষক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় অলিম্পিক কোম্পানির ডিলারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড বাগেরহাটে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ফকিরহাটে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন বাগেরহাট জেলায় শুরু হয়েছে স্মার্ট কৃষক কার্ড এর তথ্য সংগ্রহ কাঁঠালিয়ায় চলছে কৃষক স্মার্ট কার্ড তথ্য সংগ্রহ রাজপাড়া থানা পরিদর্শনে আরএমপি কমিশনার শ্যামনগরে বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কালীগঞ্জে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

আতংক কাটলেও গ্রামজুড়ে নতুন চিন্তা “রাইত পার হইল ঠিকই, তয় বাধ মজবুত না হলি সামনে বরষাকালে বড় বিপদ ডাকি আনবে”

শাহজাহান সিরাজ, কয়রা( খুলনা) প্রতিনিধি

আতংক কাটলেও গ্রামজুড়ে নতুন চিন্তা “রাইত পার হইল ঠিকই, তয় বাধ মজবুত না হলি, সামনে বরষাকালে বড় বিপদ ডাকি আনবে”-

রাইতের সেই ভয়ানক উত্তাল পানি-বাড়তি অবস্থা থাইমসে। গ্রামবাসী বড়শ্বাস লইতে পারছে ঠিকই, কিন্তু ভোর হইতেই নতুন দুশ্চিন্তার ঢেউ বইছে গ্রামজোড়া। কারণ- নদীর ধারলাগা বাঁধডার যে মেরামত আর জোড়াইয়ের কাজ কয় মাস ধরেই থমকাইয়া আছে, হেইডা এখন সামনে বরষা ঢোকার আগে শেষ না হইলে বড় বিপদ অপেক্ষা।

এ ঘটনা বৃহস্পতিবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার সর্ব দক্ষিণের জনপদ কপোতাক্ষ নদের মাটিয়াভাঙ্গা গ্রামে। । রাতে হঠাৎ নদী ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করার উপক্রম হলে। আতঙ্ক নিয়ে বাঁধের দিকে ছুটে যান কয়েকজন। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ নদীতে মিলিয়ে যেতে দেখেন তারা। পরে গ্রামবাসীর তাৎক্ষণিক ঐ রাতে একটি রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে সক্ষম হয়। তাদের আশায়-ভরসা এখন শুধু একটাই: “বরষা ঢোকার আগেই বাঁধডা মজবুত হইয়া উঠুক। তবে জরুরী ভিত্তিতে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে যে কোন সময় লবন পানিতে প্লাবিত হবে কয়েকটি গ্রাম। এখনো ভাঙনের আশঙ্কা থাকায় বিষয়টির সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ দিদারুল আলম জানান, সুন্দরবনঘেঁষা আড়পাঙ্গাসিয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের মোহনার সংলগ্ন বাঁধটিতে এক মাস আগেই ফাটল দেখা যায়। বিষয়টি পাউবোকে জানানো হলেও তারা প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। তিনি বলেন, অল্প কিছু বস্তা ডাম্পিং করে দায়সারা কাজ করা হয়েছিল তখন। তাই রাতে আগের ফাটলটি হঠাৎ বড় হয়ে বাঁধ ধসে গেছে।
ভাঙনের খবর শুনে রাতেই ঘটনাস্থলে যান মাটিয়াভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান ও খায়রুজ্জামান। তাঁরা গিয়ে দেখেন, বাঁধের মাটি বড় বড় খণ্ড হয়ে নদীতে ঝুপঝাপ শব্দে ভেঙে পড়ছে। তাঁদের মতে, দ্রুত রিং বাঁধ নির্মাণ করায় লোকালয় প্লাবিত হয়নি। তবে জোয়ারের পানি যেভাবে বাড়ছে, এতে দ্রুত সংস্কারকাজ না করা হলে আবারও ভাঙনের ঝুঁকি আছে।

মাটিয়াভাঙ্গার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ বলেন, “মনডা ধইরা আছিলাম বুকে। পানির টানে মনে হইতেছিলো, আরেকবার হইলে জীবনডা বইসা যাবে।” পানির চাপ কমলেও গ্রামের মানুষের মুখে হাসি নাই-ভয়টা এবার অন্য দিক থাইক্যা। বাঁধের কাজে ধীরগতি- ‘হেইডাই আসল অশান্তি’

দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওসমান গনি খোকন বলেন, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে ঐ রাতেই কাজ করে করে রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকানো সম্ভব হয়েছে। পাউবো সূত্র জানা গেছে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘পুনর্বাসন’ প্রকল্পের আওতায় কয়রা উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের দুটি পোল্ডারে ( ১৩-১৪ /১ ও ১৩-১৪ /২) প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে উচ্চতা-প্রশস্ততা বৃদ্ধি, ঢাল সংরক্ষণ, নদীশাসন ও চর বনায়নের কাজ করা হচ্ছে। মাটিয়াভাঙ্গার ভাঙন এলাকাটিও ওই প্রকল্পের অংশ।

পাউবোর সাতক্ষীরা-২ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আলমগীর কবীর বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে বাঁধটি মেরামতের কাজ চলছে। তিনি বলেন, কাজ চলমান অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধটি ভেঙে গেছে। কংক্রিট ব্লক নির্মাণের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাতেই বিকল্প রিং বাঁধ দিয়ে পানি আটকাতে পারায় এলাকা প্লাবিত হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি আগামী বর্ষার আগে ঠিকমতো বাঁধের কাজ শেষ না হলি বড় বিপদের সম্মিখিন হবেন তারা। পাউবো সাতক্ষীরা-২ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, জটিলতা, বরাদ্দ বিলম্ব, বালু-মাটির সংকট এবং নদীর ভাটার সময়ের ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। মাটিয়াভাঙ্গা এলাকার বাঁধে জরুরী ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে। সংকিত হওয়ার কিছু নেই।

তবে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, কাজের ধীর গতি, অসমাপ্ত মাটি ভরাট, কোথাও সিসি ব্লক না দেওয়া, আবার কোথাও বালুর বস্তা ফেলার বাকি আছে। এসব কারণে বাঁধের অনেক স্থানে ধস বেড়েছে এবং তৈরি হয়েছে ভাঙনের ঝুঁকি।

দক্ষিণ বেদকাশীর বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, ‘শুধু মাটিয়াভাঙ্গা না, এলাকার অনেক জায়গায় কাজ না করি ফেলাইয়ে রাখা হইছে।
“বাঁধের বড় অংশডা দুর্বল। কাজ শুরু হইছিলো, তয় মাঝপথে অনেক কিছু থাইমসে গেছে। এখন বর্ষা আসলে চাপ সামলানো মুশকিল।
গ্রামের যুবকরা প্রতিদিন বিকালবেলা বাঁধের ধার দিয়ে ঘুরে দেখে পানি ঢোকার সম্ভাবনা কতটুকু।

তাদের মুখেও একই ভয়-
“এক রাতডায় এতটা ভয় পাইছি, বরষা শুরু হইলে কী হইবো? বাঁধডা যদি একবার দেইখা দাড়াইতে না পারে, তয় বাচমু কেমনে। তাদের আশায়-ভরসা এখন শুধু একটাই: “বরষা ঢোকার আগেই বাঁধডা মজবুত হইয়া উঠুক।”

গ্রামবাসীর প্রস্তুতি- ‘বাঁচনের চেষ্টাডাই’
লোকজন শুকনো খাবার, লবণ, মোমবাতি, প্লাস্টিক, পানির ড্রাম- সব জিনিসই আগেভাগে জোগাড় করতেছে। কোনো পরিবার আবার গরু-ছাগল আগাম অন্যত্র সরাইতে শুরু করছে।

নারী-পুরুষের মুখেই এক কথা-
“রাইত পার হইছে ঠিকই, তয় আসল বরষা যে সামনে হেইডাই বুকডা কাঁপাইতেছে।
ছবি সংযুক্ত ঃ কয়রার কপোতাক্ষ নদের মাটিয়াভাঙ্গা বেড়িবাঁধে হঠাৎ ভয়াবহ ভাঙ্গনের কবলে, আতংকিত এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ