July 25, 2026, 6:02 pm
শিরনাম :
রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান কালীগঞ্জে বাল্য বিয়ের অপরাধে কনের পিতাকে ছয় মাসের কারাদন্ড বরিশাল জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন মাদার নদীর বাঁশের স্যাকোটি ব্রীজ করার দাবীতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কবিরহাটে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালায় জলবায়ু পরিবর্তন, প্রভাব এবং করনীয় শীর্ষক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় অলিম্পিক কোম্পানির ডিলারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড বাগেরহাটে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

খুলনায় জোড়া খুনের ঘটনায় মামলা হয়নি : গ্রেপ্তার নেই, তদন্ত চলছে

আমিরুল ইসলাম, খুলনা ব্যুরো প্রধান
ফাইল ছবি

খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে দুই শীর্ষ অপরাধী – হাসিব হাওলাদার এবং ফজলে রাব্বি রাজন হত্যার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জোড়া খুনের পিছনে চারটি সম্ভাব্য কারণ যাচাই করছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। এখনও পর্যন্ত কোনও সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীদের পরিবার কোনও মামলা দায়ের করেনি। পরিবারের কোনও সদস্য মামলা না করলে পুলিশ অভিযোগকারী হিসেবে মামলা দায়ের করবে। এখনও কোনও সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়নি।

এদিকে আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, খুলনার নতুন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই শীর্ষ চরমপন্থী নেতা – নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম এবং আরমান শেখ ওরফে আরমিন – হাইকোর্টের জামিনে মুক্তি পাওয়ার মাত্র দুই দিন পরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। উভয়ই দৌলতপুর-ভিত্তিক অপরাধী “টাইগার খোকন” হত্যার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের মুক্তির ফলে খুলনার অপরাধ জগতে অস্থিরতা তীব্র হয়েছে বলে জানা গেছে। খুলনায় বর্তমানে সাতটি বড় গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী চরমপন্থী এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলি আধিপত্যের লড়াইয়ের অংশ হিসাবে আরও আক্রমণ চালাতে পারে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা আশংকা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রবিবারের ঘটনার সময় আদালতে কর্তব্যরত পুলিশদের কাছে কেবল লাঠি ছিল — আগ্নেয়াস্ত্র নয় — যার ফলে হস্তক্ষেপ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, অপরাধীদের কাছে অত্যাধুনিক অস্ত্র রয়েছে বলে মনে করা হয়।

পুলিশের মতে, কুখ্যাত গ্যাং লিডার ‘রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবু গ্রুপ’ এই জোড়া খুনের সাথে জড়িত। খুলনা কারাগারে বাবুর সমর্থকদের সাথে পলাশ গ্রুপের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় নিহতরা কারাগারেই ছিলেন এবং সংঘর্ষে অংশ নেন। তার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলার কারণ হতে পারে।

তদন্তকারীরা চারটি উদ্দেশ্য বিবেচনা করছেন, এগুলো হচ্ছে- ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিবর্তনের পর মাদক নেটওয়ার্কের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, বাবু গ্রুপ এবং পলাশ অনুসারীদের মধ্যে সাম্প্রতিক কারাগারে সংঘর্ষের প্রতিশোধ এবং সোনা, অস্ত্র এবং মাদক চোরাচালানের রুট নিয়ে প্রতিযোগিতা।

কেএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ত.ম. রোকনুজ্জামান বলেন, খুলনার অপরাধ জগত একাধিক উপদলের মধ্যে বিকশিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে পলাশ গ্রুপ, গ্রেনেড বাবু গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ এবং হুমা, আরমিন এবং নাসিমের নেতৃত্বে পৃথক উগ্রপন্থী গোষ্ঠী। নাসিম এবং আরমিনের মুক্তির পর তাদের কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করেছে।

তিনি নিশ্চিত করেছেন, পুলিশ আইনজীবী এবং পথচারীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ থেকে ছবি সংগ্রহ করেছে। শীঘ্রই খুনিদের গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, রোববার বেলা সাড়ে ১২টারদিকে খুলনার আদালত পাড়ায় সন্ত্রাসীদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে ফজলে রাব্বি রাজন ও হাসিব নামে দু’জনকে হত্যা করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ