গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বিএনপির পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে শরীক দলগুলোও। আন্দোলনের কেন্দ্রে থাকা বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি জেল-জুলুমের শিকার হতে হয়েছে যুগপৎ আন্দোলনের নেতাকর্মীদেরও।
তবে বিএনপিও তার প্রতিদান দিতে তৈরি বলে জানিয়েছেন দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শরীক দলগুলোকে ভুলে যায়নি বিএনপি। ৩০০ আসনের মধ্যে ৬৩ আসনে শরীক দলের নেতাদের জন্য কোনো প্রার্থী দেয়নি দলটি। এরপর থেকেই শরিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে নানামুখী সমীকরণ। খালি থাকা ৬৪টি আসন ঘিরে হিসাব-নিকাশ কষছেন যুগপৎ আন্দোলনে থাকা নেতারা।
জোটসঙ্গীরা বলছেন, বিএনপি যেন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়। সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চূড়ান্ত প্রার্থিতার তালিকা প্রকাশ করার দাবি তাদের।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এমনকি প্রাথমিকভাবে যাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে সেখানেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত শরিকদের জন্য ৪০ থেকে ৪৫টি আসন ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। অধিকাংশ আসনেই আমরা জোটসঙ্গীদের সুযোগ দিতে চাই। সংখ্যাটি ৪০ থেকে ৪৫ এর মধ্যেই থাকবে। তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে এই সংখ্যা কমবেশি হতে পারে। আশা করি, নির্বাচনের মাঠে যোগ্যদেরই প্রার্থী করতে পারব।
জোট নেতারা বলছেন, ইতোমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাই আর কালক্ষেপণ না করে বিএনপি বাকি আসনগুলোর ব্যাপারে সুরাহা করে দ্রুত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে বলে আশা করেন তারা।
এ বিষয়ে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জানান, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করে, আলাপ-আলোচনা করে একটা বোঝাপড়ার জায়গায় আসতে পারব।
জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, বেশ কিছু সিট জোটের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিছু সিট নিয়ে এখনও আলোচনা বাকি আছে। পুরো আলোচনা শেষ হওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত আসবে।
জানতে চাইলে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গণতন্ত্র পুরোপুরিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। সবরকম চক্রান্ত ছিন্ন করেই আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির সাথে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কথা অনস্বীকার্য যে, বিএনপি দেশের অন্যতম একটি বড় রাজনৈতিক দল। তবে বিএনপির সাথে আমরাও দীর্ঘদিন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই করেছি। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শরিক দলের নেতাকর্মীরাও ফ্যাসিবাদের আগ্রাসনের শিকার হয়েছেন।
আগামী নির্বাচনে বিএনপি তাদের মূল্যায়ন করার আশ্বাস দিয়েছে। আমরাও সেটা বিশ্বাস করি। এ বিষয়ে বিএনপির সাথে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগও চলছে।