প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে এসেছেন তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় তিনি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর তিনি সরাসরি নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য রওনা হয়েছেন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় তিনি জনসভায় যোগ দেন। সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর সোয়া ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। এরপর নগরের গণকপাড়ায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন এবং সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নবিরতির কর্মসূচি ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে রাজশাহীতে পৌঁছানোয় এসব কর্মসূচি বাদ দিয়ে তিনি সরাসরি জনসভাস্থলে যান। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহীর আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ বিতরণেরও কর্মসূচি রয়েছে। রাজশাহী সফর শেষে সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন তারেক রহমান। এর আগে সকালে তিনি রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সেখানে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও জনসভা উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরে রাজশাহী নগরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে তাঁর যাত্রাপথসহ বিভিন্ন সড়কে সংস্কার, পিচ ঢালাই ও রং করার কাজ করা হয়েছে। দেয়ালে আঁকা হয়েছে চিত্র। ড্রেন মেরামতের পাশাপাশি বিভিন্ন ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথ পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করতে নেওয়া হয় বিশেষ উদ্যোগ। এছাড়াও জনসভার জন্য ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে তৈরি করা হয়েছে বড় মঞ্চ। মাঠের উঁচু-নিচু অংশ সমান করার কাজও করা হয়। গত কয়েক দিন ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতির কাজ তদারকি করেন।
জনসভা বিকেলে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়। বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে তাঁরা জনসভাস্থলের দিকে আসতে থাকেন। দুপুর আড়াইটার মধ্যে মাঠ নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। দুপুর থেকেই মঞ্চে বিএনপির জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদসহ অন্যরা।