বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশের যৌথ উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের র্যালিতে নেতৃত্ব দেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্ব পর্যটন দিবসের তাৎপর্য ও সাতক্ষীরার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) শেখ মো. মনিরুজ্জামান, পিপিএম।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিথুন সরকার। এ ছাড়া সামাজিক বনায়ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ বিল্লাহ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মো. সাকিবুর রহমান বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, ‘সাতক্ষীরার আকর্ষণ সুন্দরবন’—এমন বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জেলায় পর্যটনশিল্প এখনো প্রত্যাশিতভাবে বিকশিত হয়নি। সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্পের বিকাশে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো পর্যটনকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি পর্যটন এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। বিশেষ করে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো ও পরিবেশদূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ বলেন, সাতক্ষীরায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নৌপথে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনশিল্পের বিকাশে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে পর্যটনকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে দেবহাটা উপজেলার রূপসী ম্যানগ্রোভ এলাকাকে উপযুক্ত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটনশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও আরও বিকশিত হবে।
বিশ্ব পর্যটন দিবসের র্যালি ও আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ সদস্য, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং সাতক্ষীরার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।