September 27, 2026, 4:06 pm

পবিপ্রবির শিক্ষার্থীকে মারধর-ছাত্রী হেনস্তার অভিযোগ

মেহেরুন্নেছা লাবনী, পবিপ্রবি প্রতিনিধি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকায় আটকে মারধর, এক ছাত্রীকে হেনস্তা ও তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে দুমকি থানায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পবিপ্রবির দ্বিতীয় সেমিস্টারের এক ছাত্রী তাঁর এক সহপাঠীকে নিয়ে অটোরিকশায় ঘুরতে বের হন। থানা ব্রিজের সামনে থেকে অটোরিকশাটি শ্রীরামপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার বাড়ির ভেতর দিয়ে গ্রামীণ সড়কে যাওয়ার সময় মাদ্রাসার সামনে কয়েকজন যুবক তাঁদের গতিরোধ করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, যুবকেরা তাঁদের পরিচয় জানতে চান এবং ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে কোথায় যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং এলাকায় ঘুরতে বের হয়েছেন বলে জানান। অটোরিকশাচালকও তাঁদের পক্ষে কথা বলেন। এরপর অভিযুক্তরা ওই ছাত্রকে মারধর করে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যান এবং তাঁর কাছ থেকে পাঁচ হাজার, পাঁচ শত  টাকা নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময় ছাত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ তল্লাশি করে ১ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় অভিযুক্তদের একজন অটোরিকশায় উঠে ওই ছাত্রীর শরীরে অশালীনভাবে স্পর্শ করেন। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি বাড়লে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা দুমকি থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশ সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা তৈরি করে এবং পরে ছবির মাধ্যমে তাঁদের শনাক্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও উপাচার্যের অনুমোদনের পর ভুক্তভোগী ছাত্রী লিখিত এজাহার দেন।

মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১০ ও ৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৩, ৩৭৯ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগীরা থানায় এসে অভিযোগ জানান। আমরা তালিকা তৈরি করে ছবির মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ছাত্রী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় পাঁচজন এজাহারনামীয় আসামি রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

তিনি বলেন, “যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং মারধর ও টাকা নেওয়ার অভিযোগে দণ্ডবিধির ধারায় মামলা করা হয়েছে। আসামিরা ঘটনার পর থেকে এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, “বিষয়টি আমাদের কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এলাকার কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলেপেলে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও আশপাশের এলাকার মানুষের সঙ্গে যেন ভালো সম্পর্ক বজায় থাকে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ