শিক্ষার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণামনস্কতা বিকাশ এবং ডেটাভিত্তিক সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা গড়ে তুলতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিইজিআইএস প্রেজেন্টস ফিউচার ডেটা অ্যানালিস্ট চ্যালেঞ্জ ২০২৬’ শীর্ষক এক্সপ্লোরেটরি ডেটা অ্যানালাইসিস (ইডিএ) প্রতিযোগিতা।
রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সেমিনার কক্ষে শিক্ষামূলক অলাভজনক সংগঠন বাংলায়শিখি এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার জাহান মলয়, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মহিবুল হোসেন এবং এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (ইএসআরএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শিমুল শেখ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলায়শিখির প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রাশিদুল ইসলাম রিফাত। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আয়োজক সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ পর্বে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর হাইড্রোলজিস্ট ও ক্লাইমেট চেঞ্জ বিশেষজ্ঞ রিয়াসাদ আমিন ডেটা অ্যানালিটিক্স, জিআইএস এবং রিমোট সেন্সিংয়ের ব্যবহার ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ডেটা অ্যানালিটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে তথ্য বিশ্লেষণের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হতে অনুপ্রাণিত করবে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিএইচএস এডুকেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাজমুল হাসান রাজু বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বাস্তবভিত্তিক ডেটাসেট বিশ্লেষণের মাধ্যমে তথ্য অনুসন্ধান, ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন এবং তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন নূর মোহাম্মদ চৌধুরী, দ্বিতীয় হন মো. মাহবুব শাকিল এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন সাইবা খান। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে বাংলায়শিখির আট সদস্যের মূল আয়োজন কমিটি কাজ করেছে। দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মো. রাশিদুল ইসলাম রিফাত। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—পার্টনারশিপ ও স্পন্সরশিপ পরিচালক মো. শিহাব উদ্দিন ইখতিয়ার, অপারেশনস পরিচালক মো. অন্তর, মার্কেটিং ও কমিউনিকেশনস পরিচালক ফয়সাল রহমান অভি, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট পরিচালক ফারজানা ইয়াসমিন, ক্যাম্পাস রিলেশনস পরিচালক তাসনিয়া রহমান শেফা, পাবলিক রিলেশনস ও আউটরিচ পরিচালক মাইশা হোসাইন নিহা এবং প্রোগ্রামস ও কম্পিটিশনস পরিচালক জাকারিয়া মাহমুদ সৌরভ।
আয়োজনটির টাইটেল স্পন্সর ছিল সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এবং কো-স্পন্সর হিসেবে ছিল সিএইচএস এডুকেশন।

এ ছাড়া আইসক্রিম পার্টনার হিসেবে আইসক্রিম স্টেশন, লার্নিং পার্টনার হিসেবে এনবিআইসিটি ল্যাব, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট পার্টনার হিসেবে টিবিএস গ্র্যাজুয়েট, ওয়েলনেস পার্টনার হিসেবে স্কিন’ও, অফিশিয়াল বেভারেজ পার্টনার হিসেবে প্রাণ, অফিশিয়াল ডেজার্ট পার্টনার হিসেবে জয়কালী, অফিশিয়াল ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি পার্টনার হিসেবে ছবিদ্যালয় এবং কিট পার্টনার হিসেবে উদ্ভাস-উন্মেষ-উত্তরণ শিক্ষা পরিবার সহযোগিতা করে।
মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, কালের কণ্ঠ, দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
বাংলায়শিখির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেটা লিটারেসি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ ও সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতেও সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।