বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও স্কুল থেকে ঝরে পড়ামুক্ত’ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আলি হাসান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের জাতীয় পরিচালক ভেডিও টিভিটজ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অ্যাডভোকেট গোলাম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
ঘোষণা অনুষ্ঠানে কচুয়া উপজেলায় বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম, অর্জন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের কবল থেকে ফিরে আসা কয়েকজন শিশু তাদের জীবন পরিবর্তনের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। তাদের এই আবেগঘন বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের শিশু সুরক্ষায় আরও বেশি সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা জোগায়।

বক্তাদের অভিমত:
বক্তারা বলেন, প্রশাসনের কঠোর তদারকি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ভূমিকা, স্থানীয়দের সচেতনতা এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতার ফলেই কচুয়া উপজেলায় এই অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। এই অর্জনকে ধরে রাখতে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়সহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তারা।
অংশগ্রহণকারী ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ:
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল এডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মো: জামাল উদ্দিন, সাউথ বাংলা ক্লাসস্টারের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনি মিলড্রেড ডিক্রুজ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কচুয়া উপজেলা শাখার আমির মো: শফিকুল ইসলাম।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হাসান ইমাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ হাসিবুর রহমান, কচুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কুমার দাস এবং বিএমএসএফ কচুয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক তুহিন খান প্রমুখ।
এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রামপাল সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার, কচুয়া এডিপি ম্যানেজার এলিস মণ্ডল, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ধর্মীয় নেতা, অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
স্মারক ফলক উন্মোচন ও অঙ্গীকার:
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলি হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে কচুয়াকে ‘বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও স্কুল থেকে ঝরে পড়ামুক্ত উপজেলা’ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং একটি স্মারক ফলক উন্মোচন করেন।
শেষে উপস্থিত সকল অংশীজন শিশুদের একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই মহতী কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।