June 13, 2026, 11:06 am
শিরনাম :
​পারমাণবিক প্রযুক্তিতে আমাদের এই বিনিয়োগ আসলে জাতীয় উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং মানুষের কল্যাণের পেছনেই বিনিয়োগ- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী দেশে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা, শিগগিরই আসছে চীনা প্রতিনিধিদল: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করা হবে -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও উন্নয়নে পেকুয়ায় আলোচনা সভা পেকুয়ায় তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বিএনপির স্বাগত মিছিল অনুষ্ঠিত রাশিয়ার জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এর অংশগ্রহণ ভারতের আগ্রাসন ও পুশ-ইনের চেষ্টা করলে আমাদের বিজিবি ও সীমান্তের জনগণ রুখে দেবে-এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল মোহনপুরে শহীদ জিয়া প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ান আর্জেন্টিনা বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শিক্ষায় দীক্ষিত হতে হবে – এমপি আবুল কালাম আজাদ

ছেলে প্রতিবন্ধী তাই নিজেই স্কুল খুলেছেন নাজনীন, ১৩২ প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে চলা স্কুলের প্রয়োজন সহায়তা

মোঃ আম্মার মিয়া (অসীম), গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

জম্ম থেকেই ছেলে প্রতিবদ্ধী তাই নিজের সন্তানের কষ্টের কথা ভেবে নিজেই প্রতিবদ্ধী স্কুল খুলছেনে নাজনীন।

ছেলে প্রতিবদ্ধী হওয়ায় জীবনের কঠিন সময় পার করতে হয় নাজনীন কে তারপরেও বসেছিলেন না, ছেলের করুণ অবস্থা ও তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নাজনীন প্রতিবন্ধীদের জন্য নিজ গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেখানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রতিবন্ধী ছেলে মেয়েদের বিনামূল্যে লেখাপড়া করান।

খোজ নিয়ে জানায়ায় ২০২০ সালে মাতৃস্নেহ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক স্কুলটি  প্রতিষ্ঠা করেন। মুকসুদপুর উপজেলার মাটিয়া  ব্রিজ বাজারে ভাড়া দোকান ঘর নিয়ে স্কুলের কাজ শুরু করেন। এরপর বিভিন্ন জায়গা থেকে সাহায্য নিয়ে প্রতিবন্ধীদের মাঝে বই বিতরণ,হুইল চেয়ার বিতরন সহ স্কুলটিতে প্রতিবদ্ধী শিশু ও বয়স্ক মানুষকে থেরাপী দিয়ে আসছেন। বর্তমানে ১৩২ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বিনা পারিশ্রমিকে ৫ জন শিক্ষক লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের নানা রকম কাজ শেখানো পর স্বাভাবিক জীবনের ফিরেছেন অনেকে।

স্থানীয়রা জানান লোহাইড় গ্রামের  মৃত-আতিয়ার রহমানের স্ত্রী নাজনীন  তার ছেলে নাবিল জম্ম থেকেই প্রতিবন্ধী, জম্মের পর থেকে ছেলেকে বিভিন্ন জায়গা ভর্তি করানোর জন্য চেষ্টা করেন কোন ভালো ফলাফল না পাওয়ায় স্বামীর সহযোগিতায়  ক্ষুদ্র আকারে শুরু করেন স্কুলের পরিচালনার কাজ । পরে আস্তে আস্তে রুপ নেয় বিদ্যালয়ে এরপর সেখানে লেখা পড়ার পাশাপাশি শিক্ষকরা খেলাধুলায় উৎসাহ দেন। বর্তমানে বিদ্যালয়টি  নিজ অর্থায়নে ও স্থানীয় বিত্তবানদের সামান্য সহযোগিতায় কোন রকম চলছে। সরকারী সহযোগিতা পেলে প্রতিবদ্ধী স্কুলটি পরিপূর্নভাবে কাজ করতে পারবেন।

স্কুলটির পরিচালক নাজনীন  জানান, তিনি মূলত প্রথমে মাতৃস্নেহ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন পরে সেই সংস্থার মাধ্যমে স্কুল  শুরু করেন। তার ছেলের মত যারা প্রতিবন্ধী আছে তাতের নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নেন। সকলের সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি ভালো জায়গা পৌছাবে।

পরিচালক প্রধান শিক্ষক নাজনীন আক্তার আরও জানান,   আমি সহ বিদ্যালয়ে ৫ শিক্ষক  ও  ১ কর্মচারী  আছে। এখানে তারা বিনা পারিশ্রমিকে স্কুলটিতে শিক্ষা দিয়ে আসছে। নিজেদের নয় প্রতিবন্ধীদের কথা ভেবে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে পাঠদান করিয়ে আসছি।

মহারজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ সালাউদ্দিন মিয়া জানান, বিধবা নাজনীন যে কাজ করেছেন তা বিত্তবানরা করতে পারেনি। তার উদারতা ও মহান কাজের জন্য সমাজের বিত্তবানরা ও সরকারের সাহায্য কামনা করি।

মুকসুদপুর উপজেলা  সমাজসেবা কর্মকর্তা  মোঃ রাকিবুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে যাতে এগিয়ে যেতে পারে সমাজ সেবা অফিস সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির জানান, প্রতিবন্ধী স্কুল করেছেন আমাদের জানা আছে। আমার উপজেলা প্রশাসন তাকে প্রাথমিক পর্যায়ের ৫টি হুইল চেয়ার দিয়েছি। এছাড়া স্কুলটি যাতে এগিয়ে যেতে পারে তার ব্যবস্থা উপজেলা প্রশাসন থেকে করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ