September 19, 2026, 12:41 pm
শিরনাম :
সৈয়দ মঞ্জুর আহমেদ নওরোজ ও সৈয়দ ফিরোজ আহমেদের সুস্থতা কামনায় দোয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্তি দাবিতে অবসরপ্রাপ্ত ইপিাআর সদস্যর সংবাদ সম্মেলন ফকিরহাটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে লার্ভা নিধন অভিযান সালিনাবক্সা দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কোটালীপাড়ায় পদ্মবিলে ঘুরতে গিয়ে মাঝিদের হামলায় পর্যটক আহত গড়িয়া ঢালুয়া নবপল্লীর শিক্ষার্থী সিদ্ধিকার নৃত্য প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন বাগমারায় ইউপি সদস্যকে মারধরের প্রতিবাদে মানববন্ধন বাগমারা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন রাজশাহীতে নারীসহ সাবেক ওসি আটক কাঁঠালিয়ায় বিশ্বকর্মা পূজা অনুষ্ঠিত

ময়মনসিংহে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদন্ড ও ২ জনের কারাদন্ড

আব্দুল হাফিজ, ময়মনসিংহ ব্যুরো প্রধান

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কলেজছাত্র শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল (১৯) হত্যা মামলায় সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত| একই সঙ্গে মামলার অন্য দুই নারী আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে|

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন| দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রায় প্রদান করলেন|

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী, মোহাম্মদ আলী, মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু, শামছুল হক, আসিফ রানা নাঈম, মো. আব্দুল হেলিম ও মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু|মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে|

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের তথ্য গোপন ও সহযোগিতার দায়ে মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে| জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছরের অতিরিক্ত সাজা ভোগ করতে হবে|

নিহত শাহীনুর আলম ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলেন| মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে তারাকান্দার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে যায় ইকবাল|

এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি| নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ৫ জুন গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তাঁর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ| ওই ঘটনায় পরদিন ৬ জুন ইকবালের ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে প্রতিবেশী আসিফ রানা নাঈমসহ অন্যদের বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা করেন|

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর(পিপি) এডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল মামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে জানান, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে সুপরিকল্পিতভাবে ইকবালকে হত্যার পর লাশ গুম করতে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল| মানুষের সন্দেহ এড়াতে এবং লাশের গন্ধ আড়াল করতে আসামিরা মরদেহের ওপর মরা শিয়াল ও গোবর ফেলে সেখানে গাছ লাগিয়ে দিয়েছিল|

আদালত ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং দীর্ঘ যুক্তি-তর্ক শেষে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় আসামিদের এই কঠোর দণ্ড প্রদান করেছেন| এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল।

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ইকবালের বড় ভাই সেলিম মিয়া| রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমার ভাইকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল যা কল্পনা করাও কঠিন| আমরা দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায়ে সন্তুষ্ট|

আমাদের এখন একমাত্র দাবি, উচ্চ আদালতেও যেন এই রায় বহাল থাকে এবং দ্রুত যেন আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়| এদিকে রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সাতজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে| অন্যদিকে ইকবালের সহপাঠী ও এলাকাবাসী এই দৃষ্টান্তমূলক রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন| আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এডভোকেট এ এইচ এম খালেকুজ্জামান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ