July 26, 2026, 6:32 am
শিরনাম :
এহসান মোর্শেদ পিয়াল কে আহবায়ক করে মূলঘর ইউনিয়ন “মুক্তিযোদ্ধো প্রজন্ম সংসদ” এর আহবায়ক কমিটি গঠিত। পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী

সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি ব্রিজের কাজ, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ২০ গ্রামের মানুষের

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট সদর উপজেলার পূর্ব সায়েড়া–লক্ষ্মীখালী খালের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজের কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। ফলে এলাকাবাসী এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের পোল দিয়ে পারাপার করছেন। এতে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এবং জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ শেষ করার দাবিতে শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় বারাকপুর বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফকির তারিকুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান শিমুল, মো. মহিদুল ইসলাম, ইউপি সদস্য সকিনা বেগম, শেখ জিহাদ আলী খোকন, ফকির মাসুম বিল্লাহ, ছাত্রনেতা শেখ আরিফুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মশিউর রহমান সোহেলসহ স্থানীয়রা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও ঠিকাদার সরকারি টাকার একটি অংশ উত্তোলন করেছেন। ভাঙা ও নড়বড়ে কাঠের পোল দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। দ্রুত ঠিকাদারের নিয়োগ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার দিয়ে কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা।

ষাটগম্বুজ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, নড়বড়ে কাঠের পোলটির দুই পাশে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ রামপাল, মোংলা ও বাগেরহাট সদরে যাতায়াতের জন্য এই পোলের ওপর নির্ভরশীল। ব্রিজ নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ হলেও এলাকাবাসী কোনো সুফল পাচ্ছে না।

আবুল শেখ নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ঠিকাদার তো নিজের টাকা দিয়ে কাজ করবেন না, সরকারি টাকাতেই কাজ হওয়ার কথা। তাহলে কাজ ফেলে রাখা হলো কেন? দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, দরপত্র প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের শেষ দিকে পূর্বসায়েড়া–লক্ষ্মীখালী খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য নিসিথ বসু নামের এক ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪ হাজার ২১ টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ কাজের বিল উত্তোলন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের অগ্রগতি না থাকায় ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রকৌশলী এস এম হাসান ইবনে মিজান বলেন, ব্রিজটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ঠিকাদার শুরু থেকেই ঠিকভাবে কাজ করেননি। চিঠি দেওয়ার পর দুই পাশে পাইলিংয়ের কিছু কাজ করা হলেও এরপর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ