September 21, 2026, 3:14 am
শিরনাম :
ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে তারুণ্যের মেলা নওহাটা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতার গণসংযোগ কলকাতার বাজে প্রতাপ ঘাট সহ অন্যান্য ঘাটেও চলছে বিশ্বকর্মা বিসর্জন ফরিদপুরে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন চন্দ্রিমা থানায় কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের দাবিতে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি কাঁঠালিয়ায় মাদকসহ দুজন গ্রেপ্তার ময়মনসিংহে মাদক সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনায় আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত কাঁঠালিয়ায় আদালতে মামলা চলার মধ্যেই সীমানা বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগ অনিয়মের অভিযোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে দুদকের অভিযান রাজশাহীর মোহনপুরে আনসার-ভিডিপির মাদকবিরোধী সচেতনতা সমাবেশ

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১০ জনের মৃত্যু;

ডেস্ক রিপোর্ট

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে আর একটু ভালো থাকার আশায় জমিজমা বিক্রি করে ইউরোপের পথে পা বাড়িয়েছিলেন সুনামগঞ্জের ১০ জন যুবক। দালালের প্রলোভনে পড়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ টাকা খরচ করে গ্রিসের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্ন মাঝপথেই ধূলিসাৎ হয়ে গেল ভূমধ্যসাগরের নোনা জলে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের অদূরে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যু হয়েছে এই ১০ জন বীরের। পরিবারের লোকজনের দেওয়া তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন, দিরাইয়ের ৪ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জন রয়েছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নিহতদের গ্রামগুলোতে চলছে শোকের মাতম।

নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস আগে দালালের মাধ্যমে তারা লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখান থেকে তথাকথিত ‘গেমঘর’-এ রেখে গত সপ্তাহে তাদের সাগরপথে গ্রিসের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। কিন্তু সাগরের উত্তাল ঢেউ আর তীব্র অভাবের কাছে হার মানতে হয়েছে তাদের। জগন্নাথপুরের আমিনুর রহমান, শায়ক মিয়া, মো. আলী, সোহানুর রহমান ও নাঈমের মতো তরুণরা যখন না ফেরার দেশে চলে গেলেন, তখন তাদের বাড়িতে চলছে কান্নার রোল। নিহত নাঈমের ভাই ঝিনুক মিয়া ক্ষোভ ও দুঃখে জানিয়েছেন, দালালের লোকজনের কথা বিশ্বাস করে তার ভাই সাগরে প্রাণ দিয়েছে, অথচ দালালেরা এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে। দিরাই উপজেলার ময়নুজ্জামান সর্দার ময়না, সাহান এহিয়া, সাজিদুর রহমান এবং মুজিবুর রহমানের মরদেহ মৃত্যুর পর সাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে, যা এই ট্র্যাজেডিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশ প্রশাসন এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। জগন্নাথপুর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল জানান, ইউরোপে যাওয়ার নেশায় এই পরিবারগুলো আজ কেবল প্রিয়জনকেই হারায়নি, বরং ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ৮ থেকে ১০ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দালালের বিচার চেয়ে স্বজনদের গগনবিদারী আর্তনাদ এখন একটাই প্রশ্ন তুলছে—অবৈধ পথে এভাবে আর কত প্রাণ ঝরলে টনক নড়বে পাচারকারী চক্র ও প্রশাসনের?


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ