September 21, 2026, 9:05 am
শিরনাম :
ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে তারুণ্যের মেলা নওহাটা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডে বিএনপি নেতার গণসংযোগ কলকাতার বাজে প্রতাপ ঘাট সহ অন্যান্য ঘাটেও চলছে বিশ্বকর্মা বিসর্জন ফরিদপুরে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন চন্দ্রিমা থানায় কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের দাবিতে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি কাঁঠালিয়ায় মাদকসহ দুজন গ্রেপ্তার ময়মনসিংহে মাদক সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনায় আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত কাঁঠালিয়ায় আদালতে মামলা চলার মধ্যেই সীমানা বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগ অনিয়মের অভিযোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরে দুদকের অভিযান রাজশাহীর মোহনপুরে আনসার-ভিডিপির মাদকবিরোধী সচেতনতা সমাবেশ

তেল কিনতে টাকা ছাড়াও লাগবে ‘আগের ক্রয়ের রসিদ’

সৈয়দ জালিস মাহমুদ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আর বৈশ্বিক অস্থিরতার আঁচ লেগেছে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তেলের অপচয় ও অবৈধ মজুত রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এবার থেকে ফিলিং স্টেশনে গিয়ে শুধু টাকা দিলেই মিলবে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি তেল; দেখাতে হবে আরও একটি বিশেষ কাগজ।

শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) নতুন এক নির্দেশনায় এ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

বিপিসি’র নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে তেল কেনার সময় গ্রাহককে অবশ্যই ‘আগের ক্রয়ের রসিদ’ দেখাতে হবে। অর্থাৎ, ক্রেতা এর আগেরবার কতটুকু তেল কিনেছিলেন এবং কতদিন পর আবার কিনতে এসেছেন, তার প্রমাণপত্র ছাড়া নতুন করে তেল পাওয়া যাবে না।

এর পাশাপাশি ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে দৈনন্দিন তেল সরবরাহের নির্দিষ্ট সীমাও বেঁধে দিয়েছে বিপিসি। এই যেমন, ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে দিনে ১০ লিটার পর্যন্ত তেল নেওয়া যাবে।

এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাস দিনে পাবে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস প্রতিদিন ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত তেল সংগ্রহ করতে পারবে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা মাঝেমধ্যে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেলের সংকট নিয়ে নানা ‘নেতিবাচক’ খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ডিলার ও ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অবৈধভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন। মূলত এই ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত কেনাকাটা রোধ করে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই রসিদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিপিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পাম্পগুলো গ্রাহককে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে অবশ্যই রসিদ প্রদান করবে। ডিলাররা যখন ডিপো থেকে তেল সংগ্রহ করতে যাবেন, তখন তাদের বিগত দিনের বিক্রয় ও মজুতের তথ্য জমা দিতে হবে। তথ্যের গরমিল থাকলে বা বরাদ্দের অতিরিক্ত তেল কোনো অবস্থাতেই সরবরাহ করা হবে না।

বর্তমানে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের সব ডিপোতে নিয়মিত তেল পাঠানো হচ্ছে। বিপিসি আশ্বস্ত করেছে যে, শিগগিরই দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত বা ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, আগামী রোববার থেকে এই নতুন নিয়ম সারাদেশে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিপিসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ