সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রভাব ও দাপটের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এক পোল্ট্রি খামার ঘিরে অবশেষে রক্ত ঝরল। বসতবাড়ির ভেতর খামার পরিচালনা, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ জনজীবন—এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন সোলাইমান শেখের ছেলে ইব্রাহিম (২৮), গুরুতর আহত হয়েছেন তার বড় ভাই রুহুল আমিন। অভিযুক্ত আরিফ (৩০), স্থানীয় জামাল হোসেনের ছেলে, বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আরিফ রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে বসতবাড়ির মাঝখানে পোল্ট্রি খামার চালাতেন। খামারের তীব্র দুর্গন্ধে শিশু-বৃদ্ধসহ আশপাশের মানুষ অতিষ্ঠ থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেন না। কেউ প্রশ্ন তুললেই মারধর ও হুমকির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে জানা গেছে, দুর্গন্ধে ঘরে থাকা যেত না। বললেই উল্টো হুমকি -‘দেখে নেব’। তাদের প্রশ্ন- কিসের ক্ষমতায় বসতবাড়ির মধ্যে এমন খামার চালু ছিল? অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা কেন নেওয়া হলো না?
সোমবার দুপুরে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেড়বাড়ি গ্রামে ইব্রাহিম ও রুহুল আমিন খামারের দুর্গন্ধ নিয়ে কথা বলতে গেলে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রতিবেশী আরিফ ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। ঘটনাস্থলেই ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়। রুহুল আমিন বাধা দিতে গেলে তিনিও গুরুতর আহত হন।
আহত রুহুল আমিনকে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন । কলারোয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গভীর জখমের কারণেই ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ কেস হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন হোসেন বলেন, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহত ইব্রাহিম এক সন্তানের জনক; তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনরা দিশেহারা। এলাকাবাসীর দাবি – এটি শুধু একটি খুন নয়; এটি প্রভাবের দাপটে সাধারণ মানুষের কণ্ঠ রুদ্ধ করার নির্মম পরিণতি।
স্থানীয়দের একটাই প্রত্যাশা – দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বসতবাড়ির মধ্যে অবৈধভাবে পরিচালিত খামারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।