July 25, 2026, 10:37 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

২১ ফেব্রুয়ারিতে পাথরঘাটার ১৫৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাঁশের কঞ্চি ও কলাগাছই ভরসা

মাহমুদুর রহমান রনি, বরগুনা প্রতিনিধি

ফেব্রুয়ারি মাস এলেই শহীদ মিনারগুলোর কদর যেন হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। বিশেষ করে একুশে ফেব্রুয়ারি সামনে এলেই শুরু হয় ধোঁয়া-মোছা ও নতুন করে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরির তোড়জোড়। কিন্তু ভাষা আন্দোলনের ৭৩ বছর পেরিয়ে গেলেও পাথরঘাটা উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও নেই স্থায়ী শহীদ মিনার।

উপজেলায় মোট ২০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৩ টি প্রতিষ্ঠানে নেই কোন স্থায়ী শহীদ মিনার। ফলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে কলাগাছ ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে হয়। বছরের এই একটি মাসেই কলাগাছ আর বাঁশের কঞ্চিই যেন হয়ে ওঠে শহীদ স্মরণের একমাত্র অবলম্বন। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তো স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীদের ফুল দিতে যেতে হয় দূরের কোনো প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার আছে, সেগুলোর অনেকটাই পড়ে থাকে বছরের পর বছর অযত্ন ও অবহেলায়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটায় ১৪৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১১ টিতে রয়েছে স্থায়ী শহীদ মিনার, আর বাকি ১৩৮ টি বিদ্যালয়ে নেই কোনো শহীদ মিনার।

অন্যদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আওতাধীন ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে (২৯টি স্কুল, ১৮টি মাদ্রাসা ও ৭টি কলেজ) ৩৯টিতে স্থায়ী শহীদ মিনার থাকলেও ১৫টি প্রতিষ্ঠান এখনো বঞ্চিত।

শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলে তারা বাধ্য হয়ে বাঁশের কঞ্চি ও কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করেন। তবে তাদের দাবি, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয় অভিভাবক মহলের দাবি,দেশে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। তাদের কাছে আমাদের জোর দাবি, অতি দ্রুত প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করা হোক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলে শিশুরা ছোটবেলা থেকেই ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ ও ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে।

চরটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আতিকুর রহমান বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। প্রতিবছর ভাষা শহীদদের স্মরণে দিবসটি পালন করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ভাষা আন্দোলনের এত বছর পরও অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মিলে প্রতি বছর কলাগাছ ও বাঁশের কঞ্চি দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করি, যা ভাষা শহীদদের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিনাত জাহান জানান,যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি কোন বরাদ্দ নেই। তারপরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে।ড়

পাথরঘাটা উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মনিরুল ইসলাম বলেন,গত বছর উপজেলা পরিষদ থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর ১২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।আপাতত যেসব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার নেই, সেখানে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ