রাজবাড়ীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা দিতে এসে ভিন্ন ব্যক্তি (প্রক্সি) ব্যবহারের দায়ে আটক হয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন এক পরীক্ষার্থী।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখার সহকারী কমিশনার (এনডিসি) মো. হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই পরীক্ষার্থীর নাম আব্দুর রাজ্জাক। তিনি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার আশুরহাট এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাজেদ।
জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত পর্যায়ে আব্দুর রাজ্জাকের অবস্থানে ভিন্ন কোনো ব্যক্তি (প্রক্সি) লিখিত পরীক্ষা দেন। প্রথম পর্যায়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হলেও এ চতুরতার শেষ রক্ষা হয়নি ভাইভাতে (২য় পর্যায়ে) এসে। নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম (লিখিত) পর্যায়ে ভুয়া (প্রক্সি) পরিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলেও ২য় পর্যায়ের ভাইভা (মৌখিক) পরীক্ষায় অংশ নিতে নিজেই আসেন আবেদনকৃত পরীক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক। এসময় হাতের লেখা এবং প্রদত্ত তথ্যে গড়মিল পাওয়ায় বিষয়টি নজরে আসে কর্তৃপক্ষের। একপর্যায়ে বিভিন্ন নিরীক্ষা শেষে আটক করা হয় এ পরীক্ষার্থীকে।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্র জানায়, রাজবাড়ীতে সাম্প্রতিক সময়ে শেষ হওয়া সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় আব্দুর রাজ্জাকের পরিবর্তে অন্য কেউ (প্রক্সি) অংশ নিয়ে সে পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ছিল লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষার দিন। এ পরীক্ষায় আব্দুর রাজ্জাক নিজে অংশ নিতে এলে তার হাতের লেখা এবং তথ্যে গড়মিল পাওয়া যায়। এক পর্যায়ে তিনি ধরা পড়েন কর্তৃপক্ষের নজরে।
এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুবকর সিদ্দিক ওই পরীক্ষার্থীকে ২০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আজ (রবিবার) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় এক প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার সময় তার হাতের লেখার সাথে পূর্বের গৃহীত লিখিত পরীক্ষার হাতের লেখার গড়মিল লক্ষ করা যায়। পরে তাকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে লিখিত পরীক্ষায় তার পরিবর্তে অন্য কেউ প্রক্সি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।