July 25, 2026, 8:19 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যেনো আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ!

রবিউল হাসান, নোয়াখালী প্রতিনিধি

সোনাইমুড়ীর সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাঈনুল ইসলামের সম্পদের পাহাড়। তিনি যেনো অল্প দিনে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। স্ত্রী, সন্তান ও নিজের নামে কিনেছেন জমি, গড়েছেন আলিসান বাড়ী, চলাফেরা করে বিরাস বহুল গাড়ীতে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে নোয়াখালীর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার সকল সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছেৃ।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নোয়াখালীর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল নোমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাবেক সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বর্তমানে নোয়াখালী চিকিৎসা সহকারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (ম্যাটস) জুনিয়র লেকচারার ডা. মাঈনুল ইসলামের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ হয়। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিপূর্বে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। অতি শীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সোনাইমুড়ী পৌর এলাকার কৌশল্যারবাগ গ্রামের মৃত আবদুল মতিনের ছেলে ডা. মাঈনুল ইসলাম ২০০০ সালে সোনাইমুড়ী বাজারের কলেজ রোডে মেডিকেয়ার হাসপাতাল নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হন। ২০০১ সালে সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পদায়ন থাকলেও তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেননি। তার বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতালের চাকরি করা কালীন বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সংসদ সদস্যকে হাত করে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তার পদ নেন। তখন থেকে সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন বরাদ্দের অর্থ আত্বসাৎ করে বিপুল অঙ্কের টাকার মালিক হন। বিগত ২৩ বছর তিনি সোনাইমুড়ীর বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থেকে ২ টি বিলাশ বহুল গাড়ী ক্রয় করেছেন। ঢাকায় ৩ টি বিলাশ বহুল প্ল্যাট কিনেছেন। একেকটি প্ল্যাটের মূল্য চার কোটি টাকারও বেশি। কানাডায় তার সহোদরের মাধ্যমে ২ টি বাড়ী ক্রয় করেছেন। তার গ্রামের বাড়ী সোনাইমুড়ী পৌরসভার শিমুলিয়া গ্রামে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। পৌর এলাকার সোনাইমুড়ী বাজারে জমিলা মেমোরিয়াল নামে তার মালিকানাধীন ১ টি হাসপাতাল রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে ঢাকার পশ্চিম ধানমন্ডি ঝিকাতলায় ২২৭/৩, এ-৫, রোড নং- ১৯ ঠিকানায় ১ টি বাড়ী রয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে নামে বেনামে একাউন্টে রয়েছে বিপুল পরিমাণের টাকা।রয়েছে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের কৃষি জমি।

সোনাইমুড়ী উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে১০ শতাংশ জমিন ২ কোটি টাকায় ক্রয় করেছেন। তার স্ত্রী সৈয়দা তানিম আঞ্জুমানের নামে ১১ তলা ফাউন্ডেশনের ৩ তলা বাড়ি ৭টি শেয়ারে করা হয়েছে। অন্যান্য শেয়ারদারের মধ্যে মো. হানিফ ২ টি শেয়ার, সালা উদ্দিন, আমেনা বেগম, সফিক উল্যা। ২০১৯ সাল থেকে আওয়ামী লোকজনদের প্রভাব খাটিয়ে অন্যান্য শেয়ারদারদেরকে উক্ত স্থানে অবস্থান করতে দেয়নি। তাদের শেয়ারও বুঝিয়ে দিচ্ছে না। বিগত ২০২৪ সালের ৫’ই আগস্টের পর কতিপয় দলের লোকজনকে ব্যবহার করে অন্যান্য শেয়ারদারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। ৭ শেয়ারে ক্রয়কৃত জমি ও নির্মিত ভবন নিজেই একা গিলে খাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নোয়াখালীর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর উপ -পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সম্পদের তদন্ত করছে নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অতি শীঘ্রই তদন্ত করে প্রতিবেন দাখিল করা হবে।

ডাক্তার মাইনুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, তার বিরুদ্ধে দুদকে একটি অভিযোগ হয়েছে তিনি জেনেছেন। নোয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশনের সদস্যরা সরেজমিনে এসেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ