এসময় তিনি বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৫ হাজার ৬৭৪ পিস ইয়াবা, ১৩ কেজি গাঁজা, ১ হাজার ২৫৬ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ারসহ মোট ৫১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মেসবাউল ইসলাম আরও বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনা করে, ৮২৪ কেজি হরিণের মাংস ও হরিণের বিভিন্ন অঙ্গসহ ৬০০টি হরিণের ফাঁদ জব্দ করা হয় এবং ২৯ জন হরিণ শিকারিকে আটক করা হয়। এছাড়া এক হাজার ৪০০ পিসেরও বেশি গেওয়া ও গড়ান কাঠ, দুটি তক্ষক, ৬২ টি বিভিন্ন প্রজাতির কচ্ছপ এবং তিন হাজার ৪০০ কেজি পলিথিন জব্দ করা হয়। অবৈধ মৎস্য আহরণ বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রায় এক হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা সমমূল্যের ১২ কোটি মিটারেরও বেশি অবৈধ জাল এবং ১২০ কোটি টাকা সমমূল্যের রেণুপোনা, ১৪ হাজার কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ করা হয়। এছাড়াও উপকূলীয় অঞ্চলে আর্তমানবতার সেবায় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন চলতি বছরে দুই হাজারের এর বেশি দুস্থ, অসহায় ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করেছে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, পরিবার কল্যাণ সংঘ উপকূলীয় অঞ্চলে ৫০০ এর বেশি অসহায়, গরীব ও দুঃস্থ শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, জেলে, মাঝি, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতিতে পরিবেশ ও বন রক্ষা, বনজ প্রাণী সংরক্ষণ, দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম এবং অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ প্রদানসহ কিশোর-তরুণদের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রতকরণ এবং মাদক বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম আরও বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছি। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন উপকূলীয় এলাকাসমূহে এরই মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ করছে।’
নির্বাচনে কোস্ট গার্ডের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, এছাড়া নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য কোস্ট গার্ড সদস্যদের নির্বাচন কেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
নৌপথে নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের অবদান তিনি বলেন, এই অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সফরকালীন সময়ে কোস্ট গার্ড নৌপথে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। সুন্দরবনের আগত পর্যটকদের দুর্ঘটনা রোধে কোস্ট গার্ড পর্যটকবাহী নৌযানসমূহে লাইফ জ্যাকেটের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে সুন্দরবনে আগত পর্যটকদের নৌপথে নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বন বিভাগ, মৎস্য অধিদফতর এবং অন্যান্য মেরিটাইম সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন শুধু উপকূলীয় নিরাপত্তা নয়, বরং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের জান-মাল রক্ষা, বন্দর নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।