রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের গণিত বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মো.আশিকুল রহমান আশিক। মাকে হারিয়েছেন অনেক আগে, বাবা করেছেন নতুন বিয়ে। তিনি নিজেই আয় করে চলেন এবং লেখাপড়া করছেন নিজের খরচে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) পরীক্ষার ফরম পূরণের ছিল শেষ তারিখ।
একটি কোচিং সেন্টারে কাজ করে তার পক্ষে ফরম পূরণের প্রায় ৭ হাজার টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল না।
এমন অবস্থায় বাধ্য হয়ে আশিক রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনের কাছে গিয়ে তার সমস্যার কথা জানালে তিনি দ্রুত তার ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেন।
জানতে চাইলে মো. আশিকুল রহমান আশিক বলেন, আমার মা অনেক আগেই মারা গেছেন এবং বাবা আরেকটি বিয়ে করেছেন। তারপর থেকেই আমি একটি কোচিং সেন্টারে কাজ করে নিজের টাকায় চলি।
এমন অবস্থায় ফরম পূরণের এতগুলো টাকা আমার কাছে না থাকায় আমি লিমন ভাইকে বলি। আমার কথা শুনে তিনি আমার ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেন। সিটি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন ভাই আমার পাশে না দাঁড়ালে আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারতাম না। তিনি ছাত্রদল নেতা লিমনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মো.আশিকুল রহমান আশিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারায় তার বিভাগের সহপাঠীরা বলেন, আমাদের কলেজে এরকম অনেকেই আছে। তবে সকলেরই নিয়মিত খোঁজ নেন লিমন ভাই। আমরা দেখেছি কোন শিক্ষার্থী তার কাছে কোন সমস্যা নিয়ে গেলে তিনি সেটা সমাধানের চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন বলেন, আমাদের কাজেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা। তার মা নেই এবং বাবা থেকেও নেই, সে তার লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়ার খরচ নিজেই চালাই।
আমি তাকে কথা দিয়েছি সবসময় তার লেখাপড়ার বিষয়ে রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমরা তার পাশে থাকবো। শুধু আশিক নয় আমরা এইরকম সকল শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি।