July 26, 2026, 9:25 pm
শিরনাম :
রাজবাড়ীতে আর্থিক প্রতারণার প্রতিবাদে ও টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন পাথরঘাটায় জেলের ছদ্মবেশী সাংবাদিকের কাছ থেকে নৌ পুলিশের চাঁদা গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএইর সভাপতিতে সংবর্ধনা ঝালকাঠি জেলা পরিষদে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত তালা হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারী সাসপেন্ড খালিয়াজুড়ির মেন্দিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার অভিযোগ জামালপুরে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন বান্দরবানে সদর ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসনিক ক্ষমতা পেলেন কৃষি কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগে বৃক্ষমেলা উদ্বোধন শ্যামনগরে জলাবদ্ধতায় ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে আছে

বিচারকের ছেলে হত্যাকারী লিমনের পরিচয় জানা গেল

সিরাজুল ইসলাম (রনি), রাজশাহী ব্যুরো প্রধান

রাজশাহীতে বাসায় ঢুকে বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার লিমন মিয়া (৩৫) গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বাসিন্দা।

উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনের পাড়া গ্রামের বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য এইচএম ছোলায়মান হোসেন শহীদের ছেলে তিনি। শহীদ মিয়া ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লিমন ‘জিয়া সাইবার সোর্স’-এর জেলা কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পরিবারের চার সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং সাত-আট বছর চাকরির পর ২০১৮ সালে অবসর নেন। এরপর গজারিয়া হাট ও বালাসী ঘাট এলাকায় শেয়ার ও বালুবাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাজে জড়িত ছিলেন।

পরিবার জানায়, লিমনের দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যা ছিল। এক মাস আগে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেলেও এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। তিনি কেন রাজশাহীতে ছিলেন কিংবা বিচারকের পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী—এ সম্পর্কে পরিবার কিছুই জানে না।

লিমনের বাবা শহীদ মিয়া বলেন, “চাকরি ছাড়ার পর থেকেই ছেলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। এলাকায় ব্যবসা করত, রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল না। এক মাস আগে চোখ দেখানোর কথা বলে ঢাকায় যায়, এরপর আর যোগাযোগ করেনি। যদি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, আইন অনুযায়ী বিচার হোক।”

বিচারকের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারের বাবার বাড়ি গাইবান্ধা শহরের এটেস্ট্রেটপাড়ায়। একই জেলার হওয়ায় তাসমিন নাহার ও লিমনের পরিচয় হয়। কয়েক বছর ধরে লিমন তার কাছে আর্থিক সাহায্য চাইতেন এবং না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকিও দিতেন। ৩ নভেম্বর সকালে তাসমিন নাহারের মেয়ের মেসেঞ্জারে কল করে তিনি পুরো পরিবারকে হত্যার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিডিও বার্তায় লিমন দাবি করেছেন, বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে তার পাঁচ বছরের ‘সম্পর্ক’ ছিল এবং তারা ‘কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে পরিচিত হয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে বিচারকের বাসায় ঢুকে লিমন তাওসিফ রহমান সুমনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং তাসমিন নাহারকে গুরুতর আহত করেন। পুলিশ দুজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, হামলাকারীর পকেটে থাকা ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা আর্থিক লেনদেন হত্যার পেছনে কারণ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।

এর আগে ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় তাসমিন নাহার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য লিমন মিয়া আর্থিক সাহায্য না পেয়ে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পরে লিমনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ