বরিশালের গৌরনদীতে এক কলেজছাত্রকে (১৭) বলাৎকারের অভিযোগে প্রধান আসামি মাসুদ সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। এই ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানায় মামলা দায়ের হয় এবং তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে।
মামলার এজাহারে জানা গেছে, খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও স্থানীয়ভাবে ‘কিং মাসুদ’ নামে পরিচিত মাসুদ সরদার প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর সহপাঠী ইমন সরদারের মাধ্যমে তাকে উপজেলার সমরসিংহ বাজারে একটি দোকানের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেওয়া হয় মাসুদ সরদারের সঙ্গে।
পরবর্তীতে ইমন সরদার ভুক্তভোগীকে ভ্যানযোগে ইল্লা বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান এবং পথের একটি চায়ের দোকানে বসিয়ে চা পান করান। সেখানে কিং মাসুদ উপস্থিত হয়ে চায়ের বিল পরিশোধ করেন। এরপর মাসুদ ও ইমন ভুক্তভোগীকে নিলয় নামের এক যুবকের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং জোরপূর্বক জিম্মি করে তিন জন মিলে ওই কলেজছাত্রকে বলাৎকার করেন।
ভুক্তভোগীর বাবা এই ঘটনায় বাদী হয়ে মঙ্গলবার গৌরনদী মডেল থানায় মাসুদ সরদার ও তার দুই সহযোগীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরই পুলিশের অভিযান শুরু হয়। বুধবার ভোর রাতে বাড়ির মালিক নিলয় আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রধান আসামি মাসুদ পলাতক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব-৮ বরিশাল কোতোয়ালী থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদ সরদারকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে গৌরনদী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার দুপুরে মাসুদকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামি ইমন সরদারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রধান আসামি মাসুদ সরদারের নেতৃত্বে একটি পরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে ফাঁদে ফেলা হয় এবং তাকে নৃশংসভাবে বলাৎকার করা হয়। পুলিশ এই ঘটনার পেছনের পুরো জাল উন্মোচনে কাজ করছে এবং অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।