রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মধ্যম পাড়া থেকে কাচালং সরকারি ডিগ্রি কলেজে যাওয়ার সংযোগ সড়কের পশ্চিম পাশের অংশটি ভারী বর্ষণে প্রায় ১০ ফুট ভেঙে গেছে। ফলে মাষ্টার পাড়া থেকে মধ্যম পাড়া হয়ে কাচালং কলেজমুখী সড়কটি সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ মাস্টার পাড়া ও মধ্যম পাড়ার সাধারণ বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্ধ হয়ে গেছে অটো, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চলাচলও।
রাস্তাটির বেশ কিছু অংশ কাঁচা ও নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তা পানিতে ডুবে যায়। ফলে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সংযোগ সড়কের ভাঙা অংশের পূর্ব পাশে পাশাপাশি দুটি ব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে ভাঙা অংশের সঙ্গে লাগোয়া ব্রিজটির টেম্পার নষ্ট হয়ে গেছে, যা এখন নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা—যেকোনো সময় ওই ব্রিজটিও ভেঙে যেতে পারে।
এলাকাবাসী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার ও নড়বড়ে ব্রিজটি মেরামতের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কেউ কেউ জরুরি প্রয়োজনে ভাঙা স্থানে দুটি কাঠের তক্তার উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এই সড়কটি শুধু শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র পথ নয়; বরং মধ্যম পাড়া, মাস্টার পাড়া ও আশপাশের হাজারো মানুষের বাজার, স্কুল-কলেজ, অফিস ও নিত্যপ্রয়োজনে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম। এলাকাবাসীর অভিযোগ—দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখনো নেওয়া হয়নি।
বাইতুশ শরফ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ আতিকুর রহমান বলেন, “প্রতিদিন এই সড়ক দিয়েই শতাধিক শিক্ষার্থী কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দুটি কাঠ বসিয়ে কোনোরকমে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, এতে সময়ও লাগে দ্বিগুণ। এতে আমাদের উপস্থিতি ও পড়ালেখায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন—অতি দ্রুত যেন রাস্তার কাঁচা অংশ সংস্কার ও ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাইতুশ শরফ মাদ্রাসার শিক্ষক হুমায়ুন কবির মূসা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তাটি অনেকদিন ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। ছোট ছোট বাচ্চারা স্কুল ও মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। আমরা বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, কিন্তু কেউ গুরুত্ব দেয়নি। এখন মধ্যম পাড়া থেকে মুসলিম ব্লকসহ পুরো এলাকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।”
মধ্যম পাড়ার বাসিন্দা মোঃ আবছার হোসেন বলেন, “সংযোগ সড়কটি প্রায় তিন-চার মাস ধরে ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি আমি সরেজমিনে দেখে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। আশা করি, প্রশাসন দ্রুত অস্থায়ী বিকল্প পথের ব্যবস্থা ও পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে সড়কটি সংস্কার করবে।”
স্থানীয় সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ মাওলানা সুলতানা আহম্মদ, মাস্টার নূরমোহাম্মদ, ও মাস্টার হুমায়ূন কবির মূসা যৌথভাবে বলেন,
“মধ্যম পাড়া ও মাস্টার পাড়া সংযোগ সড়কটি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি। এটি সংস্কার না করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রতিদিন বাড়বে। তাই দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে সড়কের ভাঙা অংশ পুনর্নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন নোট করে রাখলাম। খুব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”