October 31, 2026, 6:01 am
শিরনাম :
খুলনায় সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা, অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত কচুয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপিত যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুয়াকাটায় দোয়া ও খাবার বিতরণ পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা, পুজোয় সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘ ছুটি বন্ধ পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নে পঞ্চায়েত মন্ত্রীর আশ্বাস মির্জাপুরে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার কাঁঠালিয়ায় শর্টবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে জামায়াতের পৌর শাখার কর্মী শিক্ষা বৈঠক অনুষ্ঠিত মির্জাপুরে সারভর্তি ট্রাক পুকুরে দামুড়হুদার সীমান্তবর্তী মাঠে রাসেল ভাইপার সাপ আটক, বন বিভাগে হস্তান্তর

আশুলিয়ায় নাসা গ্রুপের শ্রমিক অসন্তোষে ৭ শ্রমিক গ্রেপ্তার

মো: শাকিল শেখ, স্টাফ রিপোর্টার

সাভারের আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় নাসা গ্রুপের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় সাত শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো.আনিসুজ্জামান সন্ধ্যায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, “নাসা গ্রুপ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সভা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বকেয়া বেতন কর্তৃপক্ষ কিছু মালামাল বিক্রি করে পরিশোধ করবে। বিক্রি করতে যে সময় প্রয়োজন ছিল,কর্তৃপক্ষ তা চেয়েছিল। কিন্তু শ্রমিকরা সময় না দিয়ে মিটিংয়ের পরদিনই রাস্তায় নেমে ভাঙচুর করে, পুলিশকে আহত করেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরাও আহত হয়েছে। তবে সব শ্রমিক নয়, হাতে গোনা কয়েকজন এ কাজে জড়িত। যারা আসলে শ্রমিক নয়, বরং ভেতরে থাকা নাশকতাকারী ও দুষ্কৃতকারী। এ কারণে মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

এসপি বলেন, “মূল যে টিপু সুলতান, সে আগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিল। শ্রমিকদের স্বার্থে নয়, বরং উত্তেজনা ও নাশকতা সৃষ্টির জন্যই মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিল। তাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি, আদালতে সোপর্দ করেছি। আদালতের মাধ্যমে তার বিচার হবে। বাকি ছয়জনও নাশকতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করা হয়েছে।”

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, টিপু সুলতান নাসা গ্রুপের একটি কারখানার লাইন চিফ হিসেবে কাজ করতেন। আন্দোলন সংগঠিত করতে তিনি প্রধান ভূমিকা রাখতেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, “নাসা গ্রুপের ১৬টি প্রতিষ্ঠানে ৩০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। এত বড় কর্মসংস্থান হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেল। সরকারের উচিত ছিল প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে কারখানা সচল রাখা, অথবা বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা। তাহলেই শ্রমিকরা অনিশ্চয়তায় পড়তেন না। শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কারখানা চালু করা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।”

উল্লেখ্য, গতকাল বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা চালুর দাবিতে নাসা গ্রুপের শ্রমিকেরা নরসিংহপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ জলকামান ছিটিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।

সম্প্রতি নাসা গ্রুপের ১৬টি কারখানা শ্রমিকদের বেতন–ভাতা পরিশোধ না করেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর শ্রমিক প্রতিনিধি, কর্তৃপক্ষ, সরকার ও বিজিএমইএর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ অক্টোবর আগস্ট মাসের এবং ৩০ অক্টোবর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন–ভাতা পরিশোধ করবে কর্তৃপক্ষ। শ্রম আইন অনুসারে পূর্ণ বছরের জন্য ৩০ দিনের মূল মজুরি ও মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকা পরিশোধ করা হবে। কোনো শ্রমিককে কালো তালিকাভুক্তও করা যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ