July 25, 2026, 11:15 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

ন্যায্য পানি বণ্টন ও আন্ত-সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান

নিউজ ডেস্ক রিপোর্ট

বৈশ্বিক পানি ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা, স্থায়িত্ব ও ন্যায়বিচার রক্ষায় সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের টিকে থাকার জন্য আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা অপরিহার্য।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, “দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জাতিসংঘ পানি কনভেনশনে সদস্যপদ টেকসই পানি ব্যবস্থাপনায় গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বাড়াবে।”

নব-অধিভুক্ত সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “বাংলাদেশের জন্য নদী শুধু নদী নয়—নদীই আমাদের প্রাণ।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহত্তম নদীবাহিত বদ্বীপ—গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও সুরমা-মেঘনা অববাহিকার মিলনে গঠিত। দেশের মোট পৃষ্ঠজলের ৯০ শতাংশের বেশি আসে সীমান্তের বাইরে থেকে।”  নিম্নগতি প্রবাহী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার, অংশগ্রহণ এবং ‘কোনও ক্ষতি না করার’ নীতির পক্ষে কথা বলছে বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।

তিনি জানান, বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও যৌথ নদী কমিশন গঠনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে অববাহিকাভিত্তিক আঞ্চলিক সহযোগিতা এখনও নীতিগত প্রধান লক্ষ্য হিসেবে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক রায়–যেখানে দেশের সব নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ বা ‘আইনগত সত্তা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে; সেটির উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “এটি বিশ্বে পরিবেশগত ন্যায়বিচারের এক অনন্য উদাহরণ।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নদী রক্ষায় বিস্তৃত নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করেছে, তবে বাস্তবায়নে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। এজন্য সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, এবং শিল্প ও গৃহস্থালি দূষণ, লবণাক্ততা ও প্রবাহ হ্রাস মোকাবিলায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”

তিনি জানান, সরকার দেশজুড়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিরূপণ করছে, এবং ইতোমধ্যে দুইটি অঞ্চলকে ‘পানি সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ চলছে, যাতে নিরাপদ পানীয় জলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা যায়।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বাংলাদেশের টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ