বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে কালাম খান (৪৮) নামে এক কৃষককে চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের ঢেপুয়ারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় নিহতের বড় ভাই লুৎফর রহমান (৫২) গুরুতর আহত হন। তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নিহত কালাম খান চিংড়াখালী গ্রামের ওয়াজেদ আলী খান ওরফে কালু খানের ছেলে।
রবিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে নিহতের বড় ছেলে মিঠু খান বাদী হয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২, তারিখ ৫.১০.২০২৫)। মামলায় ১২ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি হিসেবে নাম এসেছে চিংড়াখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল খানের। এছাড়াও মোরেলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. মাকসুদ আলী খান ও তার ছোট ভাই আল আমীন খানকে আসামি করা হয়েছে।
নিহতের ছোট ছেলে রাব্বির খান বলেন, ঘটনার রাতে তার বাবা ও চাচা বাড়ির অদূরে ওয়াজেদ আলীর দোকানে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী দুই ভাইকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়।
রাত ১০টার দিকে তাদের মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক কালাম খানকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি দাবি করেন, ২০ বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
নিহতের চাচা নুরুজ্জামান খান দুলাল বলেন ,কালাম খান চিংড়াখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি স্ত্রী ফাহিমা বেগম ও ৫ ছেলে রেখে গেছেন। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন, হামলায় জড়িতরা একই বংশের লোক।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতলুবর রহমান বলেন,হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। সন্দেহভাজন একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। আসামিদের আটকের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।