রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর কলকাতার বাজে প্রতাপ ঘাট অর্থাৎ বাবুঘাট থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘাটে চলছে বিশ্বকর্মা প্রতিমা বিসর্জন, সকাল থেকেই একে একে প্রতিমা নিয়ে ঘাটে আসছেন এবং বিশ্বকর্মাকে বিদায় জানাচ্ছেন, বিদায় সময় একটাই সুর, আসছে বছর আবার হবে। বিশ্বকর্মা মাইকি।
প্রতিবছর শ্রমিক থেকে শুরু করে গাড়ির মালিক এবং বাড়ির লোকেরা অপেক্ষা করতে থাকেন, কবে আবার আসবে বিশ্বকর্মা। আর এই বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে অনুষ্ঠিত হয় বাড়িতে বাড়িতে মনসা পূজো। তাই সব মিলিয়ে বাড়ির লোকেরা একটা আলাদা আনন্দ উপভোগ করেন। তিন দিন ধরে পুজো ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সবাই মেতে উঠেছিল, আজ বিদায় জানানোর পালা বিশ্বকর্মা কে।
রাস্তার মোড়ে মোড়ে,বাস ইউনিয়ন, ট্যাক্সি ইউনিয়ন, রিক্সা ইউনিয়ন, থেকে শুরু করে বিভিন্ন লোহার দোকান, সাইকেল দোকান, এমনকি বাড়িতেও দেখা যাচ্ছে এই বিশ্বকর্মা পুজো, বাড়ির লোকেরা ব্যস্ত। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিশ্বকর্মার প্যান্ডেল আর আনন্দ উৎসব।।
রবিবার শেষ দিনে একে একে বিদায় জানাচ্ছেন বিশ্বকর্মা কে, তাই সকাল থেকেই ছিল ঘাট গুলিতে নিরাপত্তা বলয়, কে এম সির অফিসার থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বিভাগ এবং কেএম সির কর্মচারীরা পর্যন্ত ঘাটে উপস্থিত ছিলেন, যাতে কোনো রকম দুর্ঘটনা না ঘটে এবং ঘাট গুলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে, মাঝে মাঝেই পূজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে সতর্ক বার্তা জানান, কেউ যেনো বেশি জলে না নামে, কোন বাচ্চাদেরকে নিয়ে জলের নামা না হয়। একে একে প্রতিমার নিরঞ্জন করে যেন উপরে উঠে আসেন।

অন্যদিকে দেখা গেলো প্রতিমা বিসর্জন করার সাথে সাথে কেএম সির কর্মীরা প্রতিমা থেকে শুরু করে অন্যান্য সামগ্রী নদীর গা থেকে তুলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমা করছেন, যাতে কোনভাবে দূষণ না ছড়ায় এবং ঘাটটি অপরিষ্কার না হয়। এবং ঘাটের চতুর্দিকে নিরাপত্তা বলয় দিয়ে ঘেরা। কোনরকম দুর্ঘটনা ঘটলে তারা মোকাবিলা নামবেন এরকমটাই দেখা গেল।।
আজ ছোট থেকে বড় সমস্ত প্রতিমায় একে একে নিরঞ্জনের পথে। কেউ আসছেন ঢাকবাদী বাজিয়ে, কেউবা শঙ্খ ও উলুর ধ্বনি দিয়ে বিদায় জানাচ্ছেন বিশ্বকর্মা কে।