July 25, 2026, 9:20 pm
শিরনাম :
পবিপ্রবিতে উদয় ভবনের নিলাম অনুষ্ঠিত আগের সরকারের দুর্নীতির তদন্ত করে পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু যশোরের বাঘারপাড়ায় এনসিপির পথসভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় এস্কাফ সিরাপ জব্দ তালায় টিআরএম বিলের বকেয়া আদায় ও জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন প্রান্তিক ভূমিহীন ও মৎস্যজীবীদের কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পবিপ্রবিতে চাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় জুলাই অভূত্থান স্মরণে ছাত্রশিবিরের আয়োজনে স্বর্ণপদক প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী মেদনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মাঠে রফিকুল ইসলাম খান

আলোচিত ধর্ষণ মামলার রায়: বেকসুর খালাস ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী

সিরাজুল ইসলাম রনি, রাজশাহী ব্যুরো প্রধান

রাজশাহীর তানোর উপজেলার বহুল আলোচিত কিশোরী ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি তৎকালীন ধর্মযাজক ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু আদালত-১।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেল চারটার দিকে ট্রাইব্যুনালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) শরনিম আকতার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিলের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ ও ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী আদালতের রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই স্বপন হাঁসদা বলেন, এই রায়ে তাদের পরিবার সন্তুষ্ট নয়। তার দাবি, তার বোনের প্রতি হওয়া অন্যায়ের ন্যায়বিচার তারা পাননি। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

বাদী স্বপন হাঁসদার অভিযোগ, ছয় বছর ধরে বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে যাওয়ায় মামলার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় কিছু নথি যথাসময়ে আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি একজন আদিবাসী হিসেবে বিচারপ্রক্রিয়ায় হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বোনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিতালী বলেন, আসামিকে খালাস দেওয়ায় ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ মনে করে। তিনি জানান, এখনো আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়া যায়নি। রায়ের অনুলিপি সংগ্রহের পর আদালত কোন যুক্তিতে খালাস দিয়েছেন, তা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম বলেন, শুরু থেকেই তাদের দাবি ছিল, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একজন ধর্মযাজককে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে রাষ্ট্রপক্ষ পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও গ্রহণযোগ্য নথিপত্র উপস্থাপন করতে না পারায় আদালত আসামিকে খালাস দিয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে আপিল করতে পারে, সেটি তাদের আইনগত অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী বলেন, দীর্ঘ ছয় বছরের আইনি লড়াই শেষে তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন। এই সময় তাকে অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আদালতের রায়কে তিনি ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় তিনি সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা মাহালীপাড়া এলাকার ওই কিশোরী বাড়ির পাশে সাধুজন মেরী গির্জার কাছে ঘাস কাটতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন তার বড় ভাই স্বপন হাঁসদা তানোর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গির্জা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ওই রাতেই তার বড় ভাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় তৎকালীন ফাদার প্রদীপ গ্রেগরীকে একমাত্র আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, কিশোরীকে গির্জার একটি কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামিকে বেকসুর খালাস দেন। তবে বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের ঘোষণা দেওয়ায় মামলাটির আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ