July 25, 2026, 4:01 pm
শিরনাম :
মোরেলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তালায় জলবায়ু পরিবর্তন, প্রভাব এবং করনীয় শীর্ষক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় অলিম্পিক কোম্পানির ডিলারের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ড বাগেরহাটে বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন ফকিরহাটে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন বাগেরহাট জেলায় শুরু হয়েছে স্মার্ট কৃষক কার্ড এর তথ্য সংগ্রহ কাঁঠালিয়ায় চলছে কৃষক স্মার্ট কার্ড তথ্য সংগ্রহ রাজপাড়া থানা পরিদর্শনে আরএমপি কমিশনার শ্যামনগরে বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কালীগঞ্জে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

ভারী বৃষ্টিতে বাগেরহাটে জনদুর্ভোগ চরমে, ক্ষতিগ্রস্ত ৭০২ হেক্টর কৃষিজমি

তরফদার রবিউল ইসলাম

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে কয়েকদিন ধরে টানা ও থেমে থেমে হওয়া ভারী বৃষ্টিতে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পৌর শহরসহ জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষ। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টির কারণে কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা। ইতোমধ্যে জেলার ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

মোংলা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট পৌর শহরের শালতলা, মুনিগঞ্জ, পৌরসভা এলাকা, কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজার, ফলপট্টি মোড়, মারিয়া পল্লী, সদর হাসপাতাল মোড়সহ বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনায় পরিবেশ পরিস্থিতিও নাজুক হয়ে উঠেছে।

কেন্দ্রীয় কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী নয়ন দেব বলেন, ভোররাত থেকে টানা বৃষ্টিতে কাঁচাবাজার, পৌরসভার সামনের সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। অনেক দোকানে পানি ঢুকেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ভেসে আসা ময়লা-আবর্জনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়েছে।

মুনিগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মুন্না ইসলাম বলেন, প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বাড়ি থেকে বের হতে চরম কষ্ট হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়।

রিকশাচালক খালেক হোসেন বলেন,বৃষ্টি হলেই পৌরসভার সামনের সড়ক হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মোটরচালিত রিকশার মোটর নষ্ট হয়। ভাঙা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে রিকশারও ক্ষতি হয়। এসব মেরামত করতেই আয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় হয়ে যায়।

অতিবৃষ্টিতে কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ মোতাহার হোসেন বলেন, জেলায় ৭০২ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আউশ ধান, রোপা আমনের বীজতলা, মরিচ এবং বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেত। দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, এখন পর্যন্ত জেলার কোনো মাছের ঘের প্লাবিত হয়নি। তবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ঘের তলিয়ে যাওয়া বা মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

বাগেরহাট পৌরসভার প্রশাসক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন, পৌরসভার সব ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে স্বল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি জমেছে। বৃষ্টি কমে গেলে দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে আশা করছি।

টানা বর্ষণে জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায়ও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। তাদের দাবি, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নিয়মিত খাল-নালা পরিষ্কার এবং টেকসই জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ