June 13, 2026, 1:30 pm
শিরনাম :
​পারমাণবিক প্রযুক্তিতে আমাদের এই বিনিয়োগ আসলে জাতীয় উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং মানুষের কল্যাণের পেছনেই বিনিয়োগ- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী দেশে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা, শিগগিরই আসছে চীনা প্রতিনিধিদল: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করা হবে -মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও উন্নয়নে পেকুয়ায় আলোচনা সভা পেকুয়ায় তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে বিএনপির স্বাগত মিছিল অনুষ্ঠিত রাশিয়ার জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এর অংশগ্রহণ ভারতের আগ্রাসন ও পুশ-ইনের চেষ্টা করলে আমাদের বিজিবি ও সীমান্তের জনগণ রুখে দেবে-এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল মোহনপুরে শহীদ জিয়া প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ান আর্জেন্টিনা বাগেরহাটে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শিক্ষায় দীক্ষিত হতে হবে – এমপি আবুল কালাম আজাদ

“লামায় মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স পাহাড়” মেঘ আর সম্ভাবনার নতুন অর্থনীতি হয়ে গড়ে উঠছে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের নতুন পর্যটন কেন্দ্র

মো. ইসমাইলুল করিম, বান্দরবান প্রতিনিধি

পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ঘেরা জনপদ পার্বত্য জেলার বান্দরবানের “লামায় মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স পাহাড়” মেঘ আর সম্ভাবনার নতুন অর্থনীতি হয়ে গড়ে উঠছে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের নতুন পর্যটন কেন্দ্র।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সবুজ পাহাড়ঘেরা জনপদ পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় একসময় দুর্গম ও অনুন্নত হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চল শনিবার (০৬ মে) সকালে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। আর সেই সম্ভাবনার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স। পাহাড়চূড়ার মেঘ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আধুনিক পর্যটন অবকাঠামোর সমন্বয়ে মিরিঞ্জা এখন দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে আগামী এক দশকের মধ্যে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স কক্সবাজার, সাজেক ও নীলগিরির পর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

পাহাড়ের চূড়ায় মেঘের রাজ্য বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিরিঞ্জা পাহাড়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,৬০০ ফুট উচ্চতার এই পাহাড়চূড়া থেকে চোখে পড়ে অসংখ্য সবুজ পাহাড়ের সারি, দূরে মাতামুহুরী নদীর আঁকাবাঁকা প্রবাহ এবং প্রকৃতির অপূর্ব বিস্তার। বর্ষা ও শীত মৌসুমে পাহাড় চূড়াজুড়ে তৈরি হয় মেঘের বিশাল আস্তরণ।

অনেক সময় মনে হয় যেন পর্যটকরা মেঘের ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন। সূর্যোদয়ের সময় পূর্ব আকাশের লাল আভা এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের সোনালি আলো পাহাড়ি প্রকৃতিকে অনন্য সৌন্দর্যে রাঙিয়ে তোলে।স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তাদের মতে, সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে কয়েক হাজার দর্শনার্থী মিরিঞ্জা ভিউ পয়েন্টে ভিড় করেন। শীতকাল এবং বর্ষা মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে।

পর্যটন অবকাঠামোর বিকাশ পর্যটন করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মিরিঞ্জা এলাকায় পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে—দৃষ্টিনন্দন ওয়াচ টাওয়ার পর্যবেক্ষণ ডেক বিশ্রামাগার নিরাপদ হাঁটার পথ দর্শনার্থীদের বসার স্থান গাড়ি পার্কিং সুবিধা আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব অবকাঠামো মিরিঞ্জাকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন গন্তব্যে রূপান্তর করার ভিত্তি তৈরি করেছে। লামার অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, পর্যটন খাত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।

মিরিঞ্জাকে কেন্দ্র করে লামা উপজেলায় ইতোমধ্যে পর্যটননির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন রিসোর্ট ও আবাসন ব্যবসা গড়ে উঠছে। রেস্টুরেন্ট ও খাদ্য ব্যবসার প্রসার ঘটছে।পরিবহন খাতে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় কৃষিপণ্য ও পাহাড়ি ফলের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে।যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে।স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তাদের মতে, পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতে কয়েক শতাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা পর্যটন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সে কয়েকটি খাতে বড় বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

ইকো-রিসোর্ট পরিবেশবান্ধব কটেজ, পাহাড়ি রিসোর্ট এবং আন্তর্জাতিক মানের আবাসন সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব। অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম ট্রেকিং মাউন্টেন বাইকিং জিপ লাইন ক্যাম্পিং রক ক্লাইম্বিং সাংস্কৃতিক পর্যটন লামার মার্মা, ত্রিপুরা, চাকমা, ম্রোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।নদীভিত্তিক পর্যটন মাতামুহুরী নদীকে কেন্দ্র করে নৌভ্রমণ, ইকো-ট্যুর এবং প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

কক্সবাজার-লামা পর্যটন করিডোর বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজারের সঙ্গে লামার দূরত্ব তুলনামূলক কম হওয়ায় একটি সমন্বিত পর্যটন করিডোর গড়ে তোলা সম্ভব। কক্সবাজার–চকরিয়া লামা–আলীকদম বান্দরবান রুটে পর্যটন সার্কিট গড়ে উঠলে পর্যটকদের অবস্থানকাল বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে বহুগুণ প্রভাব পড়বে।

পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ পর্যটনের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে কিছু ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণপাহাড় কাটা বন উজাড় প্লাস্টিক দূষণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে মিরিঞ্জার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA), বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বশীল পর্যটন নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সরকারের করণীয় পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, মিরিঞ্জাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করতে প্রয়োজন—সমন্বিত মহাপরিকল্পনা পর্যাপ্ত সরকারি বিনিয়োগ বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহ নিরাপদ পর্যটন ব্যবস্থা আধুনিক আবাসন সুবিধা ডিজিটাল প্রচারণা পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত একসময় যে পাহাড় ছিল স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ, আজ সেই পাহাড়ই পর্যটনের নতুন অর্থনীতির ভিত্তি হয়ে উঠছে।

মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়, এটি লামার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির নতুন প্রতীক। সঠিক পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মিরিঞ্জা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘের রাজ্য দেখার অভিজ্ঞতা যেমন পর্যটকদের মুগ্ধ করে, তেমনি এই প্রকল্প স্থানীয় মানুষের কাছে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এক নতুন স্বপ্নের নাম বলে জানান তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ