বাগেরহাটের কচুয়ায় ভ্যাপসা গরম আর তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যে উপড়ে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এবং ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এই উপজেলার সাধারণ মানুষ।
অসহনীয় গরমে একদিকে যেমন জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে নষ্ট হচ্ছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটছে।
কচুয়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ গ্রিডের বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি বলেন, “গ্রিডে ওভারলোডের কারণে ফল্ট এড়াতে আমরা গ্রাম এলাকায় সতর্কতামূলকভাবে ঘনঘন লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি।
যদি গ্রিডে বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা মেরামত করতে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।”
বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি একটি সাময়িক সংকট। জ্বালানি সংকট স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটবে এবং লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি কমে আসবে।
তীব্র গরমের এই সময়ে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।