৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে কুরতুবী আলিম মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটি সিনিয়র গ্রুপে (কলেজ পর্যায়) প্রথম স্থান এবং জুনিয়র গ্রুপে (স্কুল পর্যায়) তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জনাব মোসা. লায়লা আঞ্জুমান বানুর পক্ষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মুজিবুল আহসান। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব শাহীন রেজা কর্তৃক স্বাক্ষরিত সনদপত্রও প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কলেজ পর্যায়ে কুরতুবী আলিম মাদ্রাসার উপস্থাপিত প্রকল্প ছিল “রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ (আরডিএনএ) মডেলের মাধ্যমে প্রোটিনসমৃদ্ধ কলা উদ্ভাবন”। জীবপ্রযুক্তির ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার প্রোটিনসমৃদ্ধ কলা উৎপাদনের একটি ধারণা এতে উপস্থাপন করা হয়, যা ভবিষ্যতে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বহন করে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পুষ্টিহীনতা মোকাবিলায় একটি উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, জুনিয়র গ্রুপে তাদের প্রকল্প ছিল “স্মার্ট সেচ ব্যবস্থা”। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। স্বল্প ব্যয়ে ইন্টারনেট ও মোবাইলের মাধ্যমে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য এ প্রযুক্তিটি বিদ্যুৎ ছাড়াও সৌরশক্তির সাহায্যে পরিচালিত হতে পারে, যা কৃষি খাতে টেকসই সমাধান হিসেবে বিবেচিত।
সিনিয়র গ্রুপের বিজয়ী শিক্ষার্থীরা হলেন: অনামিকা আলফি আমরি, মেফতাহুল জান্নাত মায়া, ফাতেমাতুজ জহুরা, মেঘলা আক্তার, ফারজানা তালুকদার ও সুমাইয়া লিজা। প্রজেক্ট সহযোগিতায় ছিলেন আরাফ আরেফিন কাব্য, আব্দুর রৌফ, মো. আতিক, বায়েজিদ ও শাকিল। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন মাদ্রাসার জীববিজ্ঞান প্রভাষক মো. আরিফুল ইসলাম।
জুনিয়র গ্রুপের বিজয়ী শিক্ষার্থীরা হলেন: সিনান, সিয়াম, সালাহাত, সাবিত, আমির হামজা, তানভীর ও শাফিন। এ প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে ছিলেন আইসিটি প্রভাষক হাফেজ মো. ইমরান হোসাইন, আনিকা ম্যাডাম ও কালাম স্যার।
এদিকে, কলেজ পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ, কাগমারী এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বিবেকানন্দ স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
কুরতুবী আলিম মাদ্রাসার বিভাগীয় প্রধান মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল হক এবং পরিচালক (প্রশাসন ও শিক্ষা) মো. রেজাউল করিম এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এ অর্জন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণামুখী চিন্তাধারাকে আরও উৎসাহিত করবে। তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, উভয় প্রকল্পের উদ্ভাবনী ও ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা বিচারকমণ্ডলী ও দর্শনার্থীদের প্রশংসা অর্জন করেছে।
তারা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।