September 17, 2026, 11:57 pm
শিরনাম :
মনস্বিতা মহিলা ডিগ্রি কলেজে নজরুল বর্ষ উদযাপন কোটালীপাড়ার নাজিম এবার বিভাগীয় দাবা প্রতিযোগিতায় তালায় নেক্সাস প্রোগ্রামিংয়ের যুব অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা নয়, আচরণগত পরিবর্তন ও মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে- জেলা প্রশাসক শহীদ সাইফুদ্দিনের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শরণখোলায় ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন কোটালীপাড়ায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ফলের গাছ কাটার অভিযোগ কোটালীপাড়ায় তিন ফার্মেসিকে ১১ হাজার টাকা জরিমানা দর্শনা চেকপোস্টে মেহেরপুর আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার রাজারহাটের নাজিমখানে ব্রিজের উচ্চতায় বিপজ্জনক সড়ক

কোটালীপাড়ায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়ায়,অভিভাবকদের মিষ্টি বিতরণ

কামরুল হাসান, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৬ নং ঘাঘরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় মিস্টি বিতরণ করেছে শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা।

রবিবার সকাল ১১ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অভিভাবকেরা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তপতী বাড়ৈর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিভাবকেরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। এমনকি শিক্ষার্থীরা টানা দুইদিন বিদ্যালয় বর্জন করে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় গত ৬ এপ্রিল গোপালগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা: জ্যোৎস্না খাতুন স্বাক্ষরিত এক পত্রে অভিযুক্ত শিক্ষক তপতী বাড়ৈকে লঘুদণ্ড প্রদানসহ স্থায়ী বদলির আদেশ দেন। রবিবার (১২ এপ্রিল সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন অভিভাবকেরা। তারা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক আকিমন বেগম বলেন, আমাদের সন্তানদের সঙ্গে খারাপ আচরণের কারণে আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি। বহুদিন ধরে এর প্রতিকার চেয়েছি। অবশেষে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তপতী বাড়ৈ আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অভিশাপ ছিলেন। তিনি শিক্ষক নামের কলঙ্ক।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি বোরহান খান বলেন, শিক্ষক হচ্ছেন আদর্শের প্রতীক। সেখানে যদি এমন আচরণ হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, আমরা ম্যাডামকে অনেক ভয় পেতাম। আমাদের সাথে খারাপ আচরণ করতেন। এখন মনে হচ্ছে আমরা নিশ্চিন্তে স্কুলে যেতে পারবো।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হয়েছে এবং প্রমাণ পাওয়ায় বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতে অন্যদের জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


আমাদের ফেসবুক পেজ