কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সংবাদ সংগ্রহ করে ফেরার পথে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মো: আরিফুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত ২৭ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার রাতে উপজেলার হরিষ্বর তালুক মৌজাস্থ ‘গ্রীন ক্যাফে’ সংলগ্ন রাস্তায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার আনুমানিক রাত ৭:৩০ ঘটিকায় সিন্দুরমতি মেলা থেকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে গোলাম রব্বানী নামে একজনের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আরিফুল ইসলাম। পথিমধ্যে ওত পেতে থাকা সোহেল আনিছ (৩৩) ও তার দুই সহযোগী মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে।
গাড়ি থামানোর সাথে সাথেই ১ নং বিবাদী সোহেল আনিছ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করে মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাসসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এরপর আরিফুল ইসলামকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পকেট থেকে নগদ ৯,০০০/- (নয় হাজার) টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং আগামী ৩ দিনের মধ্যে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা চাঁদা দাবি করে।
আরিফুল ইসলাম ঘটনার প্রতিবাদ করলে সোহেল আনিছ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে এবং এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। হামলার সময় বিবাদী চিৎকার করে বলতে থাকে, “এখন গিয়ে নিউজ কর দেখি কত বড় সাংবাদিক হয়েছিস! তোদের নিউজের কারণেই আমার বাবার পদ চলে গেছে”।
উল্লেখ্য, বিবাদী সোহেল আনিছের পিতা আনিছুর রহমান রাজারহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ছিলেন, যিনি শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। উক্ত বিষয়ে আরিফুল ইসলাম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বর্তমানে আহত সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক মহল এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।