বাগেরহাটের চিতলমারীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে বাড়ির ভেতরে ঢুকে আমির হামজা (২৩) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় হামজার বাবার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। মাত্র ২ মাস ৪ দিন আগে তার বিয়ে হয়েছিল। ঈদ উপলক্ষে সদ্যবিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন।
পরিবারের দাবি, গত ৫ আগস্টের পর খুলনায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ঘটনায় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। হামজা ওই ঘটনার প্রতিবাদ করছিলেন। সেই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাদের সন্দেহ।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, বিকেল চারটার দিকে বাড়ির উঠানে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন হামজা। এ সময় ১০–১২ জন যুবক মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় বাড়িতে প্রবেশ করে এবং নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। পরে তারা হামজাকে ধাওয়া করলে তিনি দৌড়ে বাড়ির ছাদে ওঠেন। সন্ত্রাসীরাও তার পিছু নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী এক প্রতিবেশী বলেন, “আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম, পাশের কোনো বাড়িতে বিয়ের পটকা ফোটানো হচ্ছে। পরে কাছে এসে দেখি গুলির শব্দ, আর এই ভয়াবহ অবস্থা।”
নিহতের মা বলেন, “আমার ছেলে কলেজে পড়ত, কখনো ভাবিনি সামান্য ঝামেলা এত বড় হবে যে তাকে প্রাণ দিতে হবে। ৫ তারিখের পর একটু সমস্যা হয়েছিল, কিন্তু এমন কিছু হবে কল্পনাও করিনি।”
নিহতের বাবা রুহুল আমিন মুন্সি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাড়িতে এসে পরিবার নিয়ে বসে গল্প করছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন এসে পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলে ‘আসামি পেয়েছি, ধরো।’ এরপর ধাওয়া দিলে আমার ছেলে দৌড়ে ছাদে উঠে যায়। তিনজন আমাকে ঘিরে ধরে, একজন আমার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে রাখে। আমার ছেলে প্রাণ বাঁচাতে রান্নাঘরের টিনের ওপর লাফ দেয়। এরপর ৫–৬ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনি। তারা চলে যাওয়ার পর গিয়ে দেখি আমার ছেলে খালের পাশে পড়ে আছে।”
একপর্যায়ে হামজাকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে একাধিক গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি বাড়ির পাশের খালের পাড়ে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের মা বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামীম হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবি পুলিশ কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে অন্তত ৭ জন অংশ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতাই এর কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে মোল্লাহাট উপজেলায় পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় দুইজন নিহত হন। তবে এসব ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।